ব্রেস্ট ক্যান্সার কীভাবে বুঝবেন?

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৯:৩৩ এএম, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৮

ব্রেস্ট লাম্প বা ব্রেস্টে চাকা অনুভূত হওয়া মেয়েদের জন্য একটি বড় শঙ্কার বিষয়। তবে ব্রেস্ট লাম্প মানেই ক্যান্সার নয়। ক্যান্সার ছাড়াও ব্রেস্টে বিভিন্ন কারণে চাকা হতে পারে।

ব্রেস্টে চাকা হবার কিছু কারণ রয়েছে।

ফাইব্রএডিনসিস

সাধারণত ২৫-৩৫ বছর বয়সে হয়ে থাকে। এর কারণে মাসিকের আগে বুকে চাকা চাকা এবং ব্যাথা অনুভব হয়,যা মাসিক হওয়ার পর কমে যায়। মাসিকের সময় যে হরমোন নিঃসরিত হয় তার কারণে ব্রেস্টের টিস্যুতে কিছু পরিবর্তন হয়,ফলে এই ধরনের অনুভুতি হয়।

ফাইব্রএডিনোমা

এটি একটি বিনাইন লাম্প। ১৫ থেকে ২৫ বছর বয়সে বেশি হয়।সাধারণত হঠাৎ করে বুকে এই চাকা ধরা পরে যা সহজেই নড়াচড়া করে এবং ব্যাথাহীন হয়ে থাকে। এজন্য এ ধরনের চাকা কে ব্রেস্ট মাউস বলা হয়। সাইজ ছোট হলে আপনা আপনি মিলিয়ে যেতে পারে, তবে বড় হলে অপারেশন করে অপসারণ করতে হয়।

ব্রেস্ট সিস্ট

সিস্ট হচ্ছে পানি ভর্তি টিউমার। এগুলো যেকোনো বয়সে হতে পারে,তবে নারীদের মেনপোজের আগে বেশি হয়। সিস্টগুলো মসৃণ ও গোলাকার হয়ে থাকে। এর চিকিৎসা হচ্ছে নিডেলের মাধ্যমে পানি অপসারণ করা।

ব্রেস্ট এবসেস বা ইনফেকশন

এটা স্তন্যদায়ী মায়েদের ক্ষেত্রে বেশি হয়। অনেক সময় ব্যাকটেরিয়া আঘাতপ্রাপ্ত স্থান বিশেষ করে ক্রাক নিপেল দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে পুঁজ তৈরি করে। এটি খুব ব্যাথা যুক্ত হয়।

চিকিৎসা হিসেবে ব্যাথার ঔষধ,এন্টিবায়োটিক, গরম কমম্প্রেশন দেয়া হয়। পুঁজ বা এবসেস বড় থাকলেসার্জারির মাধ্যমে ড্রেইন করে নিয়মিত ড্রেসিং করার দরকার হয়।

ফ্যাট নেক্রসিস

কোন কারনে ব্রেস্ট আঘাতপ্রাপ্ত হলে ব্রেস্টের ফ্যাটি টিস্যু নেক্রসিস হয়ে চাকা তৈরি করে।এগুলো সাধারনত ধীরে ধীরে অপসারিত হয়, কিছু ক্ষেত্রে সার্জারি করার দরকার হয়।

লাইপোমা

এটা ফ্যাটি টিস্যুর টিউমার, যা ক্যান্সার নয়। সাইজ বড়ো হলে সার্জারি করা অপসারন করা লাগে।

ব্রেস্ট ক্যান্সার

ব্রেস্টে চাকার একটি কারণ হচ্ছে ক্যান্সার। অন্যান্য চাকার সঙ্গে এর পার্থক্য হল এটি সহজে নড়াচড়া করানো যায় না, উপরিভাগ অমসৃন ও সাধারনত ব্যাথাহীন হয়ে থাকে।

কিভাবে ব্রেস্টের চাকা বুঝতে পারবেন?

ঘরে বসেই স্তন পরীক্ষা

সেলফ এক্সামিনেশন এর মাধ্যমে নিজেই নিজের স্তন্য পরীক্ষা করে দেখা যায়। প্রতি মাসে মাসিকের পর আপনি ঘরে বসেই আপনি এ পরীক্ষা করতে পারেন।

কখন ডাক্তারের কাছে যাবেন?

যেকোনো চাকা অনুভব হলে অবশ্যই ডাক্তারি পরীক্ষার মাধ্যমে এর ধরন নির্ণয় করতে হবে,বিশেষ করে চাকাটি যদি মাসিক হবার পরও মিলিয়ে না যায়,আস্তে আস্তে বড় হতে থাকে অথবা ব্যাথা থাকে।

চামড়ায় কোন পরিবর্তন

ব্রেস্টের চামড়ায় কোন পরিবর্তন লক্ষ করলে যেমন, কুঁচকানো ভাব,লোমকূপের ছিদ্র বড় হয়ে যাওয়া অথবে রঙের কন পরিবর্তন।নিপেল ভিতরের দিকে ঢুকে গেলে অথবা এ থেকে কোন অস্বাভাবিক ডিসচার্জ বা রস বের হলে। কী কী পরীক্ষার দরকার হতে পারে?

চাকার কারণ নির্ণয়ের জন্য কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষার দরকার হয়,যেমন আল্ট্রাসনোগ্রাম, এফ এন এ সি,বায়োপসি, ম্যামোগ্রাফি ইত্যাদি।

ক্যান্সার প্রতিরোধের উপায়

যাদের ফ্যামিলিতে ব্রেস্ট ক্যান্সারের হিস্ট্রি আছে তাদেরকে এ বিষয়ে সচেতন হতে হবে। এছাড়া সঠিক খাদ্যাভ্যাস, ওজন নিয়ন্ত্রণ,হরমোনাল পিল ৩-৫ বছরের অধিক গ্রহণ না করা এবং শিশুকে সঠিক ভাবে বুকের দুধ পান করালে ব্রেস্ট ক্যান্সারের প্রতিরোধোক হিসেবে কাজ করে।

আপনার মতামত লিখুন :