নারী স্বাস্থ্য নিয়ে এই তথ্যগুলো একেবারেই ভুল!

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪২ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

‘অন্তর্বাস পরিধান করলে ব্রেস্ট ক্যান্সারের সম্ভাবনা বাড়ে’ কথাটি নিশ্চয়ই একজন নারী হিসেবে অনেকবার শুনেছেন? আসলেই কি এমন কিছু হয়? শুধু এই একটি নয়, নারীস্বাস্থ্য নিয়ে প্রাত্যাহিক জীবনে এমন অনেক কথা আমরা শুনি, যেগুলোর খুব একটা ভিত্তি নেই। চলুন, জেনে নেওয়া যাক নারীস্বাস্থ্য নিয়ে আমাদের জানা অতি পরিচিত কিছু ভুল ধারণাকে-

হৃদপিণ্ডের সমস্যায় সবচাইতে বেশি ভোগেন পুরুষেরা :

স্তন ক্যান্সারকে যেমন অনেকে শুধু নারীদের রোগ ভেবে থাকেন, তেমনি হৃদপিণ্ডের সমস্যাকেও অনেকে শুধু পুরুষের সমস্যা বলে ভাবেন। বাস্তবে, হৃদপিণ্ডজনিত অসুস্থতা পুরুষের যেমন হয়, তেমনি নারীদেরও হয়ে থাকে। ৪৫-৬৪ বছর বয়স্ক প্রতি ৯ জন নারীর মধ্যে ১ জনের হৃদপিণ্ডে সমস্যা দেখতে পাওয়া যায়। তবে এতে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। আপনি যদি-

• নিয়মত শরীরচর্চা করেন
• ধূমপান না করেন
• স্বাস্থ্যসম্মত খাবার গ্রহণ করেন এবং
• নিজের ওজনকে খুব বেশি বাড়তে না দেন

সেক্ষেত্রে আপনার হৃদপিণ্ডে সমস্যা হওয়ার সম্ভাবনা কম থাকবে। সাধারণত, নারীদের হৃদপিণ্ডের সমস্যা পুরুষদের চাইতে দশ বছর পর গিয়ে ধরা পড়ে বা জন্ম নেয়। বয়স বেড়ে যাওয়ায় শরীর রোগের বিরুদ্ধে তখন অতটা লড়াইও করতে পারে না। তাই, পুরুষদের চেয়ে অনেকক্ষেত্রে নারীদের হৃদপিণ্ডের সমস্যাকে একটু বেশি বিপদজনক বলে মনে করা হয়।

অন্তর্বাস পরিধান করলে ক্যান্সার হওয়ার সম্ভাবনা বেড়ে যায় :

অনেকেই ভেবে থাকেন যে, অন্তর্বাস বিশেষ করে ধাতব অন্তর্বাস পরিধান করলে নারীদের স্তন ক্যান্সারের ঝুঁকি বেড়ে যায়। এক্ষেত্রে কারণ হিসেবে তারা মনে করে, অন্তর্বাস শরীরের রক্ত চলাচলে বাঁধা দেয়। ফলে বিষাক্ত পদার্থ তৈরি হয় শরীরের মধ্যে। সেখান থেকে জন্ম নেয় ক্যান্সার।

মূলত, রক্ত শরীরের উপরের দিকে যাতায়াত করে। অন্তর্বাস এক্ষেত্রে কোন সমস্যা তৈরি করে না। সেটা যদি করে থাকে, তবুও এতে করে আপনার ব্রেস্ট ক্যান্সার হওয়ার ঝুঁকি ততটা বাড়বে না, যতটা আপনার নিজের স্বাস্থ্য, পরিবারের ইতিহাস, সন্তানের জন্ম- ইত্যাদির জন্য বাড়বে।

পিরিয়ডের সময় সন্তানধারণ করা যায় না :

কথাটা একদমই সত্যি নয়। নারীর পিরিয়ডের চক্র এবং শারীরিক অবস্থার উপরে নির্ভর করে ডিম্বাণু তৈরি হওয়ার সময়। এছাড়া, শুক্রাণু অনেকটা সময় কর্মক্ষম থাকে। তাই পিরিয়ড হোক বা না হোক, ফলাফলটা এক্ষেত্রে ঠিক মাসের অন্য যেকোনো দিনের মতোই হওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

নারীদের কিডনিতে পাথর হয় না :

অনেকেই ভেবে থাকেন যে, নারীদের কিডনিতে পাথর জমে না। বাস্তবে, পাথর হয় এবং সেটা বেশ কষ্টকর একটি ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায় নারীদের জন্য। সাধারণত ৪০ বছরের বেশি বয়সী পুরুষদের কিডনিতে পাথর দেখা যায়। আর এটা তাদের ক্ষেত্রে ঘটেও বেশি।

তবে নারীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা দেখা যায় ৫০ বছরের পর। অবশ্য, তাঁর মানে এই নয় যে, নারীরা এর আগে কিডনির পাথরের সমস্যায় ভুগতে পারেন না। এই সমস্যা থেকে দূরে থাকার জন্য প্রচুর পরিমাণ পানি পান করুন। আর যদি আপনার পিঠে ব্যথা দেখা দেয় এবং প্রস্রাব করার সময়ও ব্যথা পান, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।

মর্নিং সিকনেস শুধু সকালেই হয় :

গর্ভধারণ করার পর নারীদের মধ্যে হরমোনের পরিবর্তনের কারণে মর্নিং সিকনেস দেখতে পাওয়া যায়। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, মর্নিং সিকনেস শুধু সকালেই হয়। এটি দিনের যেকোনো সময়েই হতে পারে।

স্নেহপদার্থ আপনাকে আরও মোটা বানিয়ে দেবে :

একেবারেই নয়। আপনি বাদাম, ডিম, টুনা মাছ, অ্যাভোকাডো ইত্যাদি যেকোনো স্বাস্থ্যকর স্নেহপদার্থ গ্রহণ করুন। এতে করে আপনার শরীর আরও ভালো থাকবে। কিন্তু পেস্ট্রি, ডোনাট ইত্যাদি অস্বাস্থ্যকর স্নেহপদার্থ সমৃদ্ধ খাবার খেলে আপনার ওজন অবশ্যই বেড়ে যাবে।

তাই, যে যা বলছে সেটা একবাক্যে বিশ্বাস না করে চারপাশে তাকান। যে কথাটি চিকিৎসাবিজ্ঞানে বলা আছে সেটিই মেনে চলুন।

আপনার মতামত লিখুন :