যুদ্ধ শুরু হলে নিয়ন্ত্রণ থাকবে না : ইমরান খান

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০১:৫৬ এএম, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বুধবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে তার শান্তির বার্তা ও সংলাপের প্রস্তাব পুনরুজ্জীবিত করতে প্রতিবেশী ভারতের দেশ ও নীতিনির্ধারকদের উদ্দেশে ভাষণ দেন। পাকিস্তানি বিমানবাহিনী (পিএএফ) লাইন কন্ট্রোল জুড়ে সফলভাবে ভারতের আগ্রাসী ক্ষমতা প্রদর্শনের লক্ষ্যে এবং এলইসি অতিক্রম করার পর দুটি ভারতীয় বিমানকে গুলি করে ভূপাতিত করার পর এমন নির্দেশনা আসে। ‘ডন’

ভারতীয় বিমানবাহিনী একজন পাইলট বর্তমানে পাকিস্তানের সশস্ত্র বাহিনীর আটকাবস্থায় আছে। তিনি উইং কমান্ডার আভিনন্দন হিসেবে নিজের পরিচয় দিয়েছেন।

প্রধানমন্ত্রীর তাঁর ভাষণের শুরুতে বলেন, ‘আমি গতকাল সকালে থেকে অবস্থার উন্নয়ন নিয়ে জাতির আস্থা তৈরি করতে চেয়েছিলাম।

‘পুলওয়ামাতে যা ঘটেছিল তার পর আমরা ভারতকে শান্তির প্রস্তাব দিয়েছিলাম। পরিবারগুলো (যারা পুলওয়ামা দুর্ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের হারিয়েছে) তাদের কষ্ট আমি বুঝতে পারছি। আমি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছি এবং সহিংসতার শিকার মানুষের বেদনা দেখেছি। আমরা আমাদের ৭০ হাজার মানুষকে হারিয়েছি এবং আমি জানি যারা চলে গেছে এবং যারা আহত হয়েছে তাদের অবস্থা।’

‘সেই ভিত্তিতে, আমরা ভারতকে প্রস্তাব দিয়েছিলাম যে আমরা সহযোগিতা করব। আমাদের ভূমি সন্ত্রাসবাদের জন্য ব্যবহার করাতে পাকিস্তানের স্বার্থ নাই কোনো। সেখানে কোনো বিরোধ নেই। তবুও, আমি এখনও ভীত ছিলাম যে ভারত (প্রস্তাবটি উপেক্ষা করবে) এবং এখনও পদক্ষেপ নেবে। এজন্য আমি ভারতকে আগ্রাসনের বিরুদ্ধে সতর্ক করে দিয়েছিলাম এবং বলেছিলাম যে, আমরা কোনো সার্বভৌম দেশকে তার সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করার অনুমতি দিতে পারব না তাই আমাদের জবাব দিতে বাধ্য করবেন না।’

‘ভারত যখন গতকাল সকালে হামলা করে, তখন সেনাপ্রধান ও আমি কথা বলেছিলাম। আমরা দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাইনি, আমাদের ক্ষতির সম্পূর্ণ মূল্যায়ন ছিল না এবং এটা দায়িত্বহীন হতো যদি আমরা জবাব দিতাম তাহলে তাদের অংশে অনেক হতাহত হতো। যখন আমরা ক্ষতির মূল্যায়ন করেছি, তখন আমরা পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।’

‘আমাদের আজকের কর্মকাণ্ডের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল যে, যদি আপনি আমাদের দেশে আসতে পারেন তবে আমরাও একই কাজ করতে পারি তা প্রকাশ করা। আমরা যা করেছি এটাই তার একমাত্র উদ্দেশ্য।’ তিনি বলেন, নিয়ন্ত্রণরেখায় বেসামরিকদের যুক্ত করে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করার ইঙ্গিত করেই তার এই ভাষণ।

তিনি বলেন, ‘আমাদের অঞ্চলগুলোতে পার হওয়ার পর তাদের দুইটি জঙ্গি বিমান মিগ (পাকিস্তানি বাহিনী দ্বারা) গুলি করে নামানো হয়েছিল। আমরা এখান থেকে কই যাচ্ছি এটাই এখন গুরুত্বপূর্ণ। এখানে থেকে, আমাদের মাথা ব্যবহার করে এবং বিজ্ঞতার সঙ্গে কাজ করা জরুরি’ তিনি যুক্ত করেছিলেন।

‘সব যুদ্ধই ভুল হিসাব করে শুরু হয় এবং কেউ জানে না যে তা কোথায় গিয়ে থামবে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এক সপ্তাহে শেষ হওয়া উচিত ছিল কিন্তু তার সমাপ্তিতে ছয় বছর লেগেছিল। একইভাবে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধের যুদ্ধ যে ১৭ বছরেও শেষ সম্ভব হবে না তা আশা করেছিল না।’

‘আমি ভারতকে জিজ্ঞেস করি : আপনাদের যা অস্ত্র আছে এবং আমাদের যা অস্ত্র আছে, তা নিয়ে আমরা কি সত্যিই এই ধরনের ভুলের জন্ম দিতে পারি? যদি এই যুদ্ধ বেঁ ধেই যায় তাহলে নিয়ন্ত্রণ না আমার কাছে থাকবে না মোদীর হাতে।’

‘আমি আবার আপনাকে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি : আমরা প্রস্তুত। পুলওয়ামাতে ভারত যে দুঃখ ভোগ করেছে তা আমরা বুঝতে পেরেছি এবং সন্ত্রাসবাদের ওপর যেকোনো ধরনের সংলাপের জন্য আমরা প্রস্তুত। আমি পুনরাবৃত্তি করি যে উত্তম আচরণই প্রকাশ করা উচিত।’

‘আসুন আমরা একসঙ্গে বসি এবং আলোচনায় এর সমাধান করি’, এভাবেই পাক প্রধানমন্ত্রী তার ভাষণের ইতি টানেন।

আপনার মতামত লিখুন :