হৃদয়ে দার্জিলিং

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:২৯ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

মনে হলে ই গাঁ শিউরে উঠে। ৩০০ কি মি পথ বাইক চালানো সেকি চাট্টিখানি কথা?

১৫০ কিমি আপ-ডাউন তার মধ্যে ১০০ কিমি ভয়ংকর সুন্দর দুর্গম পাহাড়ি পথ! যেমন রোমাঞ্চকর তেমনি বাঁকে বাঁকে মৃত্যুফাঁদ।

মৃত্যু ভয় বারবার ভেংচি দিচ্ছে রাক্ষুসে দাঁতে। তবুও যেতে হবে , তবু গেলাম, পৌঁছালাম তবুও ফিরে এলাম। ( তাওয়াক্কালতু আলাল্লাহ)।

কী অপার রহস্যময় বাংলার দার্জিলিং বান্দরবান। নারী দেহের ভাজের মত প্রতি স্তরে স্তরে লুকিয়ে রেখেছে তার সৌন্দর্য।

আহা কী মায়াময়রূপ, কী ময়াময়ী গন্ধ। চিংড়ি মাছের নাকের মত তার নাক। সরু হয়ে ওঠে গেছে আকাশময়, জানান দিচ্ছে আমিই নীলগিরি।

চোখের দৃষ্টির শেষ সীমানা পর্যন্ত শতশত পাহাড়। নীল আর সবুজের সমারোহ। বন্য প্রাণী, ফুলপাখি প্রজাপতি। অজানা হাজারটা উদ্ভিদ। সারি সারি পেঁপে কলা আর আনারসের বাগান। দূর পাহাড়ের বাঁকে বাঁকে পাহাড়িদের কুটরি ঘর।

কোথাও পাহাড়িদের পাড়া। বৈচিত্র্যময় পাহাড়ি জীবন। এই পাহাড়ই তাদের জীবিকা। পাহাড়ই তাদের মা! যৌবনা নারী শিশু বৃদ্ধা জীবন সংগ্রামে ছুটছে পাহাড়ের ভাজে ভাজে। জীবনের অর্থ কি ওরাই ভাল বুঝে।

বুকের ভেতর বয়ে চলে পাহাড় নামের নদী । আহ পাহাড়ের কান্না বুক চিড়ে বেরিয়ে আসছে ঝর্ণা হয়ে। কী স্বচ্ছ তার ধারা, কী মিষ্ট তার জল! এখানে পাহাড় আর মেঘপুঞ্জের সখ্যতা। মেঘেরা পাহাড়ের বুকে হেলান দিয়ে ঘুমায়। আলিঙ্গন করে। ভাববিনিময় করে। সংযোগ ঘটায় আকাশ আর জমিনের। খুব ইচ্ছে হল যদি এখানেই থেকে যেতে পারতাম! কী শুভ্র এই মেঘ!

এই আকাশময় সরু মৃত্যুফাঁদ দিয়ে হোন্ডা নামের পংখীরাজ নিয়ে তোরাও সিনা উচু করে দাঁড়ালে, স্পর্শ করলাম দার্জিলিং কন্যার দর্শনীয় স্থান। মেঘ যেন আলতু আলতু চুয়ে পড়েছে। আমাদের আলিঙ্গন করেছে। মমতায় গালে ঠোঁট মিশিয়েছে। কী রোমাঞ্চ!

আপনার মতামত লিখুন :