স্বাস্থ্যকর মশলাগুলো সম্পর্কে যা বলেন বিশেষজ্ঞ

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০১ পিএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

স্বাস্থ্যকর মশলা || অতিরিক্ত মশলা শরীরের জন্য ভালো না। বদহজম থেকে শুরু করে ছোটোখাটো নানা সমস্যার কারণ হতে পারে মশলা। দীর্ঘস্থায়ী নানা শারীরিক সমস্যাও হতে পারে মশলার জন্য। এজন্য ভারতীয় খাবারগুলোকে একটু বেশিই অস্বাস্থ্যকরও ভারী মনে করা হয়। তবে মজার ব্যাপার হলো, ভারতীয় উপমহাদেশে রান্নার কাজে ব্যবহৃত এমন কিছু মশলা রয়েছে যেগুলো স্বাস্থ্যের জন্য বেশ উপকারী। চলুন, দেখে আসা যাক এমন কিছু স্বাস্থ্যকর মশলার নাম-

এলাচি :

মিষ্টিজাতীয় খাবার, পোলাও, যেকোন তরকারী ইত্যাদিকে এলাচি ব্যবহার করা হয়। এটি এমনিতে খুব কম পরিমাণে ব্যবহৃত হলেও, এলাচি যেকোন খাবারে একটু ভিন্নস্বাদ যোগ করে। প্রাচীনকাল থেকেই চিকিৎসাকাজে এলাচি ব্যবহার করা হয়ে আসছে। প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে এলাচিতে। এছাড়া এটি শরীরে ক্যান্সারের কোষকেও প্রতিহত করতে সাহায্য করে।

দারুচিনি :

স্বাস্থ্যরক্ষায় এবং হজমশক্তি বাড়িয়ে তোলায় দারুচিনি বেশ ভালো কাজ করে বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। রসুনের চাইতেও বেশি পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট আছে দারুচিনিতে। এতে এক প্রকারের তেল রয়েছে, যেটি খাবার গ্রহনে মানুষকে সাহায্য করে। শরীরে কোলেস্টরলের পরিমাণ কমাতে এবং শারীরিক নানা প্রদাহ দূর করতে দারুচিনির জুড়ি নেই!

ধনিয়া :

ধনিয়া পাতা এবং এর ফল- দুটোই খাবারের স্বাদ বাড়াতে এবং সৌন্দর্যবর্ধনে ব্যবহার করা হয়। ধনিয়া গুঁড়ো খাবারে হরহামেশাই ব্যবহার করা হয়। গরম মশলা পরিবারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবে ধরা হয় একে। ফাঙ্গাস বা ব্যাকটেরিয়া প্রতিরধে সাহায্য করে ধনিয়া। এছাড়া রক্তচাপ কমাতে, রক্তে চিনির পরিমাণ কমাতে এবং কোলেস্টরলের পরিমাণ শরীর থেকে হ্রাস করতে ধনিয়া গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

জিরা :

প্রাচীনকাল থেকে চিকিৎসাশাস্ত্রে জিরা বেশ কার্যকরী ভূমিকা রেখে আসছে। এছাড়া একে আয়রনের একটি বড় উৎস হিসেবে মনে করা হয়। জিরায় প্রচুর পরিমাণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট রয়েছে। এছাড়া ব্যাকটেরিয়া ও প্রদাহ দূর করতেও জিরা সাহায্যকারী। খাবারে বধহজম হওয়া এবং খাবার থেকে কোনোরকম সংক্রমণ হওয়াকেও সহজেই দূর করে জিরা। ওজন কমানোর জন্য যদি আপনি কম ক্যালোরি গ্রহন করা শুরু করেন, তাহলে এ কাজে সাহায্য করার জন্য জিরার চাইতে ভালো মশলা হতে পারে না।

আদা :

চিকিৎসকদের মতে, আদা শরীরের হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া, শরীরের কোনো ক্ষত দূর করতে খুব সহজেই সাহায্য করে আদা। শারীরিক কোনো ব্যথা, সর্দি, প্রদাহ ইত্যাদি দূর করতেও সাহায্য করে আদা। আদা চা তো নিশ্চয় খেয়েছেন? এর ঘ্রাণ আর স্বাদ যেমন অসাধারণ, ঝাঁজযুক্ত এই মশলাটি শরীরের পক্ষেও যথেষ্ট তেমন স্বাস্থ্যকর।

হলুদ :

খাবারে হলুদ কেবল রং আনতে ব্যবহার করা হয় না। এর আছে উপকারী কিছু দিকও। এই যেমন, গায়ে হলুদের কথাই ভাবুন। গায়ে হলুদ দেওয়া হয়, কারণ এতে করে শরীরের অনেক জীবাণু দূর হয়ে যায়। তবে শুধু তাই নয়, হলুদ শারীরিক প্রদাহ দূর করতে, ফুসফুসের সমস্যায়, পেটের গোলমাল থামাতে, আর্থ্রাইটিস, হৃদপিণ্ডের সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে। এছাড়া হলুদের আছে স্বাস্থ্যোপকারী আরো অনেক গুন। বছরের পর বছর ধরে আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়ে আসছে এটি।

মশলার কাজ কি শুধু স্বাদবর্ধন করা? উঁহু, একদম নয়। আর উপরে উল্লেখ করা এই মশলাগুলো তারই উদাহরণ। তাই, প্রতিদিন খাবারে কিছুটা হলেও এই মশলাগুলো ব্যবহার করার চেষ্টা করুন। এতে করে আপনি যেমন সুস্থ থাকবেন, তেমনি খাবারেও পাবেন অনেক বেশি তৃপ্তি।

আপনার মতামত লিখুন :