সন্তানের বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে সাহায্য করছেন তো?

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:৫৪ এএম, ০৩ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

যেকোনো মা-বাবাই চান আদরের সন্তান হোক বুদ্ধিমান কিংবা বুদ্ধিমতি। সন্তানের বুদ্ধিমত্তা বাড়ানোর দায়িত্ব কিন্তু আপনার। ছোট্ট কিছু কৌশল কাজে লাগালে আপনিও নিজের আদরের সোনামণিকে করে তুলতে পারেন বুদ্ধিমান। শিশু বিশেষজ্ঞ ক্যারেন কুইন এ বিষয়ে কিছু পরামর্শ দিয়েছেন। চলুন সেগুলোই জেনে নেওয়া যাক-

কথা বলুন সব বিষয়ে- 

“তুমি ছোট, এত কিছু তোমার জানা লাগবে না”— আমাদের সমাজের মা-বাবাদের একটি প্রিয় বাক্য এটি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলেন শিশুর সঙ্গে সব বিষয়ে কথা বলতে। এখনই তো তার জানার সময়। সম্ভব হলে দেশ, ইতিহাস, বিজ্ঞান, ধর্ম সব বিষয়েই কথা বলুন শিশুর সঙ্গে। এতে ওর জ্ঞান যেমন বাড়বে, তেমনি বাড়বে ভাষার দক্ষতা।

অনেকে শিশু কথা বলতে চাইলে তাকে থামিয়ে দেন। এই কাজটি মোটেও ভালো নয়। শিশুরা কথা বলবেই, এটিই স্বাভাবিক। কথা বলায় বাধা দেওয়া শিশুর মানসিক বিকাশে ক্ষতির কারণ হয়। এক গবেষণায় দেখা গেছে, কম কথা বলে এমন শিশুদের চাইতে বেশি কথা বলায় অভ্যস্ত শিশুদের বুদ্ধি অন্তত ২৮ পয়েন্ট বেশি।

ভাবনার জগত বড় করুন- 

শিশুকে আপনি যত জানাবেন, সে ততই জানবে। তার ভাবনা আর দেখার জগত প্রসারিত করুন। নানা ধরনের রং, বিভিন্ন আকৃতি, নানা রকমের ফল, ফুল, প্রাণী ইত্যাদির সঙ্গে শিশুকে পরিচয় করান। তাকে এমন কিছু বই কিনে দিন যেগুলো দেখে বা পড়ে ও নতুন নতুন বিষয় সম্পর্কে শিখতে পারবে।

গণনা শেখান- 

শিশুর বুদ্ধিমত্তা বাড়াতে চাইলে ওকে সংখ্যার সঙ্গে পরিচয় করান। হয়ত বললেন, দশ মিনিটের মধ্যে ফলটি খাও। এতে করে ও ১০ সংখ্যাটির সঙ্গে পরিচিত হবে। শিশু স্কুলে যাওয়ার আগেই ওকে যোগ বিয়োগের ধারণা দিন। ‘তোমার কাছে ৫ টি চকলেট আছে, আমি ৩টি নিলে কয়টি থাকে?’ কিংবা ‘তোমার তিনটি পেন্সিল আছে, আমি তোমাকে আরও ২টি পেন্সিল দিলাম, এখন তোমার কাছে কয়টি পেন্সিল আছে?’— এমন করে ওকে গণনা শেখান।

স্মৃতি পরীক্ষা করুন- 

কোনো বই পড়া শেষ হলে শিশুকে বইয়ের গল্পটি নিজের মতো করে বলতে বলুন। কিংবা নির্দিষ্ট পৃষ্ঠায় কী নিয়ে বলা হয়েছিল তা জানতে চান। এতে করে ওর স্মৃতিশক্তি বাড়বে। পাজল সাজানো, বিভিন্ন রং এর বল আলাদা করা ইত্যাদি খেলা খেলতে দিন। এতে করে স্মৃতিশক্তি বাড়বে।

নিজের সমস্যা নিজেকে সমাধান করতে দিন- 

আপনার সন্তানকে নিজের কাজগুলো নিজেকে করতে দিন। এই যেমন পোশাক করা, স্কুলের ব্যাগ গোছানো, পড়ার টেবিল গোছানো। একটু বেশি সময় লাগলেও বিরক্ত হবেন না। বরং ওকে সময় দিন, নিজের মতো করে নিজের কাজটি করতে দিন।

মাঝেমধ্যে ওর পরামর্শ নিন। এই যেমন রাতের খাবারে কী খাওয়া যায়, কোথায় বেড়াতে যাওয়া যায়, কী রঙের পোশাক পরবে এসব জিজ্ঞেস করুন। এতে ওর চিন্তার পরিধি ও সমস্যা সমাধানের ক্ষমতা বাড়বে।

শিশুর বন্ধু হতে চেষ্টা করুন, ওকে সময় দিন। আপনার চেষ্টাতেই আপনার সন্তান হয়ে উঠবে বুদ্ধিমান বা বুদ্ধিমতি।

আপনার মতামত লিখুন :