বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে টাস্কফোর্স গঠন

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৪:১৪ এএম, ১৭ জানুয়ারি ২০১৯

টানা দুই বছর ধরে আলোচনা চালিয়েও বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনে সমঝোতা স্মারক সই করতে পারেনি বিদ্যুৎ বিভাগ। বর্জ্য নিয়ে সরকারি সংস্থাগুলোর মধ্যে স্বার্থের টানাপড়েন শুরু হয়েছে। বর্জ্য বাণিজ্যে এই টানাপড়েন এতটাই বেশি যে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ বছরের পর বছর হোঁচট খাচ্ছে। সম্প্রতি দেশের বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন নিয়ে মন্ত্রণালয় যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে এই রশি টানাটানির চিত্রই কেবল ফুটে উঠেছে। বর্জ্য বিদ্যুতের বিষয়ে জানতে চাইলে বিদ্যুৎ বিভাগের এক কর্মকর্তা এসব কথা বলেন।

শত চেষ্টার পরও যখন কোনোভাবেই বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনে সফলতা আসছে না তখন বিদ্যুৎ বিভাগের একজন অতিরিক্ত সচিবকে প্রধান করে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে তারা কোন সিটি করপোরেশনে কীভাবে প্রকল্প নেওয়া যাবে সে বিষয়ে খোঁজখবর নিয়ে একটি সুপারিশ জমা দেবে।

বুধবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেলেই এই টাস্কফোর্স গঠনের বিষটি নিশ্চিত করেছেন পাওয়ার সেলের মহাপরিচালক মোহাম্মদ হোসাইন। তিনি বলেন, আমরা অনেক দিন ধরেই চেষ্টা করছি। কিন্তু বিষযটিতে সফলতা আসেনি। এজন্য এই উচ্চ পর্যায়ের কর্মকর্তাকে দিয়ে টাস্কফোর্স করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত তিন বছর ধরেই একটি পৃথক সরকারি কোম্পানি করার বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না। প্রায় পাঁচ বছর ধরে দেশে বর্জ্য বিদ্যুৎ উৎপাদনের চেষ্টা চলছে। কিন্তু বিনা পয়সায় সিটি করপোরেশন বর্জ্য দিতে না চাওয়াতে গোল বেঁধেছে।

বিদ্যুৎ বিভাগের একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সাধারণত এক ইউনিট বর্জ্য বিদ্যুতের দাম পড়ে ২৫ টাকার ওপরে। কিন্তু পিডিবি এক ইউনিট বিদ্যুৎ বিক্রি করে গড়ে ৫ থেকে ৬ টাকায়। এতে এ ধরনের বিদ্যুৎ পিডিবি বিক্রি করলে প্রতি ইউনিটে ২০ টাকা লোকসান হবে। একদিকে লোকসান আরেক দিকে সিটি করপোরেশনকে বর্জ্যের জন্য অর্থ পরিশোধ করতে হলে এই লোকসানের মাত্রা আরও বাড়বে। তাই পিডিবি বর্জ্য সংগ্রেহে অর্থ ব্যয় করার পক্ষে নয়। অন্যদিকে যেহেতু কোনও লাভ নেই তাই সিটি করপোরেশন এতে উৎসাহী নয়।

বিদ্যুৎ বিভাগের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, গত ১৭ অক্টোবর বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর সভাপতিত্বে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, মুখ্য সমন্বয়ক (এসডিজি) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়, সচিব, বিদ্যুৎ বিভাগ, সিটি করপোরেশনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা একটি বৈঠক করেন। ওই বৈঠকে নির্দেশনা দেওয়ার পরও বিষয়টি ঝুলে রয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন কোম্পানি গঠনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত করতে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়রদের উপস্থিতিতে এবং স্থানীয় সরকার বিভাগ এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে ২০১৬ সালের ১১ নভেম্বর প্রথম বৈঠক হয়। ওই বৈঠকে কোম্পানি গঠনের জন্য সকলে একমত হয়।

কিন্তু এরমধ্যে তিন বছর গড়িয়ে গেলেও কোম্পানি গঠন করা হয়নি। এমনকি কোম্পানি গঠনের আগে যে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করা হবে তা ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চূড়ান্ত করা হলেও এখনও স্বাক্ষর করানো সম্ভব হয়নি।

বিদ্যুৎ বিভাগের প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৬ সালের ২৯ ডিসেম্বর এমওইউটি চূড়ান্ত করে সিটি করপোরেশনগুলোর কাছে পাঠানো হয়েছে। এমওইউ সই করার ব্যাপারে পিডিবি যোগাযোগ অব্যাহত রেখেছে। শুধু যোগাযোগ করাই নয়, এমওইউ সই এর পরবর্তী কার্যক্রম ত্বরান্বিত করতে ৫টি সিটি করপোরেশনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের মন্ত্রীকে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী একটি ডিও লেটারও দিয়েছেন। তবে দুঃখজনক বিষয় হচ্ছে এরপরও সেই ফাইল নড়েনি।

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন সক্রিয় অনলাইন প্রতিনিধি। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অপরাধ, সংবাদ নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :