ফেসবুকে বিপণন

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:০৩ এএম, ০৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে বিপণন অর্থাৎ সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং এখনকার সময়ের জনপ্রিয় শব্দমালা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিশেষ করে ফেসবুক ব্যবহার করে বড়, ছোট কিংবা নতুন উদ্যোগের প্রচার প্রসার করা যায়। আবার অন্যের জন্য বিপণনের কাজটি করে দিয়েও আয় করা যায়। সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংয়ের সাত–পাঁচ নিয়ে এবারের প্রতিবেদন।

সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলতে মূলত যত ধরনের সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম রয়েছে—সবগুলোকে ব্যবহার করে বিজ্ঞাপন প্রচার করাকে বোঝালেও আমাদের দেশে ফেসবুকভিত্তিক বিপণনকেই সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বলে বুঝে থাকি। তবে একটু একটু করে অন্যান্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম যেমন গুগল প্লাস বা লিঙ্কড–ইন দরে বিপণন কর্মকাণ্ডও জনপ্রিয় হচ্ছে। এখানে এই আলোচনাও মূলত ফেসবুক বিপণন নিয়ে।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন কীভাবে এত জনপ্রিয় হচ্ছে?

কোনো সন্দেহ নেই ফেসবুকই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বড় মাধ্যম বা মিডিয়া। একবার ভাবুন, এটি এমন একটি জায়গা যেখানে গড়ে প্রতিদিন ১৫০ কোটি (১.৫ বিলিয়ন) মানুষ লগ–ইন করে। যা পৃথিবীর মোট জনগোষ্ঠীর ২০ শতাংশ। আর তাই তো এ যুগের বিপণনকর্মী বা মার্কেটিয়ারদের কাছে ফেসবুক এত জনপ্রিয়। প্লাটফর্ম ডেনসিটির কথা বাদ দিলেও আরও প্রায় ডজনখানেক কারণ রয়েছে বিপণনের মাধ্যম হিসেবে ফেসবুকের জনপ্রিয়তার। যেমন ব্যবহারকারীর সক্রিয় অংশগ্রহণ (ইউজার এনগেজমেন্ট), ক্রেতার তাৎক্ষণিক সাড়া (রিয়েল টাইম কাস্টমার ফিডব্যাক), সম্ভাব্য গ্রাহক বা ক্রেতা লক্ষ্য ঠিক করা (কাস্টমাইজড টারগেটিং), পুনর্বিপণন (রিমারকেটিং) সুবিধা ইত্যাদি কারণেও ফেসবুক বিপণনকর্মীদের কাছে জনপ্রিয়। এসবের পরে ফেসবুকের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিন দিন বিপণনকর্মীদের কাছে ক্রেতার এমন সব তথ্য নিয়ে আসছে যা দিনকে দিন একে আরও জনপ্রিয় করে তুলবে।

ফেসবুকে সহজে বিপণন

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ফেসবুক বিজ্ঞাপনের মূল্য নির্ধারণ পদ্ধতি। ফেসবুক খুব কম খরচে ব্যবহার করা যায়। যতটুকু দরকার ঠিক ততটুকুই খরচ করা যায়। তাই বড় কোম্পানি বা ব্র্যান্ডগুলোর সঙ্গে সঙ্গে ছোট, মাঝারি বা একেবারে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারাও ফেসবুককে তাঁদের বিজ্ঞাপনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করতে পারেন। এবার আসি কোন কোন উপায়ে আমরা ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দিতে পারি এবং কীভাবে সেগুলোকে আরও কার্যকর করতে পারব।

মূলত ফেসবুককে দুই ধরনের বিজ্ঞাপনমাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা যায়—অরগানিক ও পেইড। অরগানিক বিজ্ঞাপন মানে হচ্ছে বিজ্ঞাপনের জন্য সরাসরি ফেসবুকে পয়সা না দিয়ে ভালো মানসম্মত বিষয়বস্তু বা কন্টেন্টের সাহায্যে কাস্টমার এনগেজমেন্ট করা। তবে এ ক্ষেত্রে অনেক বেশি মানুষের কাছে পৌঁছানো যায় না। তবে আগে থেকে থাকা ফ্যানদের সঙ্গে নিয়মিত সংযোগ স্থাপনের জন্য অরগানিক পোস্টের ওপরেই অনেকে নির্ভর করেন। আর পেইড মার্কেটিং হলো ফেসবুকের বানানো একটি পণ্য যার মাধ্যমে কোম্পানি বা ব্র্যান্ডের যেকোনো বিজ্ঞাপন প্রত্যেক ফেসবুক ব্যবহারকারীর নিউজফিডে নিয়ে যাওয়া যায়। এর জন্য অবশ্যই ফেসবুকে মোটা অঙ্কের ডলার গুনতে হবে। ব্র্যান্ডের ফলোয়ার বাড়ানো, নতুন নতুন গ্রাহকের কাছে বিজ্ঞাপন প্রচারের জন্য ফেসবুক পেইড মার্কেটিংয়ের কোনো বিকল্প নেই।

ফেসবুকে বিজ্ঞাপন দেবার বেশ কিছু কৌশল রয়েছে। এর মধ্যে সর্বাধিক জনপ্রিয় হচ্ছে ফেসবুক বুস্ট। ডলারে লেনদেন করা যায় এমন একটি কার্ড থাকলে খুব সহজেই ফেসবুকের বুস্ট অপশন দিয়ে যে কেউ তার ব্যবসায়িক পেজটির বিজ্ঞাপন দিতে পারবেন। তবে খুব বেশি অ্যাডভান্সড অপশনগুলো এখানে পাওয়া যায় না, ফেসবুকের অ্যাডভান্সড অপশনগুলো ব্যবহার করতে হলে ফেসবুক অ্যাড ম্যানেজার ব্যবহার করতে হবে। এর মাধ্যমে আপনি ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্যে নানান ধরনের ইন্টারঅ্যাকটিভ বিজ্ঞাপন তৈরি করতে পারবেন।

গ্রুপের মাধ্যমেও বিপণন

ফেসবুক পেজ ছাড়াও ফেসবুক গ্রুপের মাধ্যমেও বিপণন করা যায়। বিশেষ করে কমিউনিটি ম্যানেজ করতে ফেসবুক গ্রুপ অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। উদাহরণ হিসেবে ফুডব্যাংক বা ফুডব্লগারসের কথা বলা যায়। বিজ্ঞাপনের জন্য তৃতীয় কোনো সংশ্লিষ্ট গ্রুপ ব্যবহার করতে পারলেও কমিউনিটি ম্যানেজ করার জন্য ব্র্যান্ডের নিজস্ব একটি অ্যাকটিভ গ্রুপ থাকা চাই।

ফেসবুক লাইভ থেকেও

ইদানীং জনপ্রিয় আরেকটি বিজ্ঞাপনমাধ্যম হচ্ছে ফেসবুক লাইভ। এটিও ফেসবুকের বিনা মূল্যে দেওয়া বিজ্ঞাপনের একটি মাধ্যম। যেকোনো ব্যক্তি বা ব্র্যান্ড চাইলেই এখন যেকোনো সময়ে ফেসবুক লাইভে এসে তার বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারে। বিজ্ঞাপনের পাশাপাশি সরাসির পণ্য প্রদর্শনী ও গ্রাহককে সক্রিয় করার একটি কার্যকরী কৌশল হচ্ছে ফেসবুক লাইভ। সৃজনশীল ব্যক্তির কাছেই বিজ্ঞাপনের জন্য এটি শক্তিশালী হাতিয়ার।

নিজের ব্যবসা শুরু করতেও

এ তো গেল বিজ্ঞাপনের কথা। বিজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি শুধু ফেসবুক ব্যবহার করেই চাইলে নিজের একটি ব্যবসায় শুরু করা যায়। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক সরাসরি বিক্রয়ের একটি চ্যানেল হিসেবে ব্যবহৃত হয় যা ব্রিক অ্যান্ড মর্টার দোকান বা ই-কমার্স ওয়েবসাইটের বিকল্প হিসেবে কাজ করে। উপমহাদেশে এই ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসায় অর্থাৎ ফেসবুক কমার্স (এফ–কমার্স) ব্যবসায় একটি বড় শিল্পে রূপ নিয়েছে। কম পুঁজি দিয়ে শুরু করা যায় বলে ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা তৈরিতে এফ–কমার্স বেশ কার্যকরী একটি ভূমিকা পালন করছে। এ রকম ফেসবুকভিত্তিক ব্যবসায় করে সাফল্যের উদাহরণ এখন আমাদের দেশেই রয়েছে।

মুক্ত পেশার জায়গাও বটে

বিজ্ঞাপন প্রচার আর ব্যবসায়ের প্লাটফর্ম ছাড়াও ফেসবুক ব্যবহার করে অনেকেই মুক্ত পেশায় (ফ্রিলান্সিং) তাঁদের ক্যারিয়ার গড়ে তুলছেন। উদাহরণ হিসেবে আলোকচিত্রীদের কথা বলা যেতে পারে। এখন তো অনেক পেশাদার আলোকচিত্রীরই ভার্চ্যুয়াল অফিস ফেসবুক।

সব মিলিয়ে যোগাযোগের মাধ্যম, বিজ্ঞাপনের মাধ্যম, ব্যবসায়ের মাধ্যম, ক্যারিয়ার প্লাটফর্ম যে যেভাবেই ব্যবহার করুক, সবার জন্যই ফেসবুকের যেন কিছু না কিছু রয়েছে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও আওয়ার বাংলা অনলাইনের অংশ হয়ে উঠুন। আইটি বিশ্বের যাবতীয় খবর, প্রযুক্তি ভাবনা ও উদ্ভাবন, গবেষণা, আপনার প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ অথবা ভার্সিটির যেকোন প্রযুক্তি বিষয়ক কর্মশালা ও খবরাখবর নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশিত হবে।

আপনার মতামত লিখুন :