প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ৩৮ জন – ফখরুলের ‌ধন্যবাদ

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:১৫ পিএম, ০৬ ডিসেম্বর ২০১৮

মনোনয়ন বাতিল হওয়া প্রার্থীদের আপিলের মাধ্যমে মনোনয়ন ফিরিয়ে দিয়ে ভোটে অংশগ্রহণের সুযোগ করে দেওয়ায় নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) ধন্যবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেছেন, ‘রিটার্নিং কর্মকর্তারা দলের অসংখ্য নেতাকে নির্বাচনের অযোগ্য করেছিলেন। আজকে আপিলে তারা বৈধ হয়েছেন। এজন্য নির্বাচন কমিশনকে ধন্যবাদ জানাই। ন্যায় বিচার পেলে দলীয় চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াও তার প্রার্থিতা ফিরে পাবেন। আমরা এখনও আশাবাদী।’

বৃহস্পতিবার (০৬ ডিসেম্বর) বিকেলে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘(মনোনয়ন ফিরে পাওয়া) এটাও একটা বিজয়। একইভাবে বিজয়ের মধ্য দিয়ে দেশনেত্রী খালেদা জিয়াকেও মুক্ত করা হবে।’

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দলীয় প্রার্থীদের মনোনয়নের চূড়ান্ত তালিকা ঘোষণা করার বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, বৃহস্পতিবার রাত ৮টার পর থেকে বিএনপির চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকা ঘোষণা শুরু হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করে বিএনপির মনোনয়নপ্রাপ্ত ৩৮ জন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। নির্বাচন কমিশনে (ইসি) আপিল শুনানির প্রথম দিন বৃহস্পতিবার (৬ ডিসেম্বর) প্রার্থিতা ফিরে পান তারা।

অন্যদিকে দলটির ২০ প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে। স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে ১৩ জন তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। আর নামঞ্জুর হয়েছে ২৫ জন স্বতন্ত্র প্রার্থীর আবেদন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের এক প্রার্থীও আপিল করে প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন।

প্রার্থিতা ফিরে পেলেন বিএনপি ৩৮ জন:
বগুড়া-৭ আসনের মোরশেদ মিল্টন, ঝিনাইদহ-১ আসনের মো. আব্দুল ওয়াহাব, ঢাকা-২০ আসনের তমিজ উদ্দিন, কিশোরগঞ্জ-২ আসনের আখতারুজ্জামান, পটুয়াখালী-৩ আসনের গোলাম মওলা রনি, ঝিনাইদহ-২ আসনের আব্দুল মজিদ, ঢাকা-১ আসনের খন্দকার আবু আশফাক, দিনাজপুর-৩ আসনের সৈয়দ জাহাঙ্গীর আলম, জামালপুর-৪ আসনের ফরিদুল কবীর তালুকদার শামীম, পটুয়াখালী-৩ আসনের মো. শাহজাহান, সিলেট-৩ আসনের আব্দুল কাইয়ুম, জয়পুরহাট-১ আসনের ফজলুর রহমান, পাবনা-৩ আসনের মো. হাসাদুল ইসলাম, মানিকগঞ্জ-২ আসনের আবিদুর রহমান খান, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের মো. আইনাল হক, খুলনা-৬ আসনের এসএ শফিকুল আলম, ময়মনসিংহ-৭ আসনের মো. জয়নাল আবেদীন, শেরপুর-২ আসনের একেএম মুখলেছুর রহমান, চট্টগ্রাম-১ আসনের নুরুল আমীন, কুমিল্লা-৫ আসনের মোহাম্মদ ইউনুস, চট্টগ্রাম-৩ আসনের মোস্তফা কামাল পাশা, গাইবান্ধা-৩ আসনের মোহাম্মদ রফিকুল ইসলাম, ঢাকা-৫ আসনের মো. সেলিম ভূঁইয়া, কুমিল্লা-৩ আসনের মুজিবুল হক, মানিকগঞ্জ-১ আসনের মোহাম্মদ তোজাম্মেল হক, ময়মনসিংহ-৩ আসনের আহাম্মদ তায়েবুর রহমান, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আবু আসিফ, পঞ্চগড়-২ আসনের ফরহাদ হোসেন আজাদ, মানিকগঞ্জ-৩ আসনের মো. আতাউর রহমান, ঢাকা-১৪ আসনের সৈয়দ আবু বকর সিদ্দিক, কুড়িগ্রাম-৩ আসনের আব্দুল খালেক, রাজশাহী-১ আসনের মো. আমিনুল হক, দিনাজপুর-১ আসনের মো. হানিফ, চট্টগ্রাম-৮ আসনের এরশাদ উল্লাহ, সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের আব্দুল্লাহ আল মামুন, নাটোর-৪ আসনের আব্দুল আজিজ, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের এমএ মুহিত ও সিরাজগঞ্জ-৫ আসনের মেজর(অব.) মঞ্জুর কাদের।

বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের ঝিনাইদহ-৪ আসনের প্রার্থী আব্দুল মান্নানও প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। বিদ্যুৎ বিলের কাগজ না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করেছিলেন রিটার্নিং কর্মকর্তা।

বিএনপির যেসব প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে (২০ জন):
খাগড়াছড়ি আসনের আব্দুল ওয়াদুদ ভূঁইয়া, পঞ্চগড়-১ আসনের মো. তৌহিদুল ইসলাম, বগুড়া-৩ আসনের মো. আব্দুল মুহিত, বগুড়া-৬ আসনে একেএম মাহবুবুর রহমান, হবিগঞ্জ-২ আসনের মো. জাকির হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আখতার হোসেন, ফেনী-১ আসনের মো. নূর আহাম্মদ মজুমদার, লালমনিরহাট-২ আসনের মো. জাহাঙ্গীর আলম, রংপুর-৫ আসনের মমতাজ হোসেন, চট্টগ্রাম-৫ আসনের মীর মোহাম্মদ নাসির, নীলফামারী-৪ আসনের মো. আমজাদ হোসেন, নীলফামারী-৩ আসনের ফাহমিদ ফয়সাল চৌধুরী, সিরাজগঞ্জ-৩ আসনের সাইফুল ইসলাম শিশির, বাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের মুশফিকুর রহমান, নাটোর-২ আসনের রুহুল কুদ্দুস তালুকদার, বগুড়া-৭ আসনের মোহাম্মদ সরকার বাদল, সিরাজগঞ্জ-২ আসনের ইকবাল হাসান মাহমুদ, নওগাঁ-৫ আসনের মোহাম্মদ নাজমুল হক, যশোর-২ আসনের সাবিরা নুর ও মাগুরা-২ আসনের খন্দকার মেহেদী আল মাসুম।

স্বতন্ত্র যেসব প্রার্থীর আবেদন মঞ্জুর হয়েছে (১৩ জন):
ময়মনসিংহ-২ আসনের মো. আবু বকর সিদ্দিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের মোহাম্মদ মোখলেছুর রহমান, লক্ষ্মীপুর-১ আসনের মাহবুব আলম, বরিশাল-২ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের আশরাফ উদ্দিন, রংপুর-১ আসনের মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান, গাইবান্ধা-৩ আসনের মোহাম্মদ আবু জাফর, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের মোহাম্মদ ইউনুস আলী, বরিশাল-২ আসনের মোহাম্মদ আনিচুজ্জামান, সিলেট-৫ আসনের ফয়জুল মুনির চৌধুরী, গাইবান্ধা-৪ আসনের আব্দুর রহিম সরকার, চট্টগ্রাম-১৬ আসনের মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম, বগুড়া-৫ আসনের মোহাম্মদ আব্দুর রউফ মন্ডল জন।

স্বতন্ত্র যাদের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে (২৫ জন):
চাঁপাইনবাবগঞ্জ-১ আসনের নবাব মো. শামছুল হুদা, দিনাজপুর-২ আসনের মোকাররম হোসেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জ-২ আসনের মো. তৈয়ব আলী, দিনাজপুর-১ আসনের মোহাম্মদ পারভেজ হোসেন, ফেনী-১ আসনের মিজানুর রহমান, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনের ড. মিজানুল হক, রাঙ্গামাটি আসনের অমর কুমার দে, বগুড়া-৪ আসনের মোহাম্মদ আশরাফুল হোসেন আলম (হিরো আলম), সাতক্ষীরা-১ আসনের এসএম মুজিবুর রহমান, ব্রাহ্মবাড়িয়া-৩ আসনের মো. বশির উল্লাহ, নওগাঁ-৪ আসনের আফজাল হোসেন, লক্ষ্মীপুর-২ আসনের আবুল ফয়েজ ভুঁইয়া, কুমিল্লা-২ আসনের মো. সারওয়ার হোসেন, কুমিল্লা-৪ আসনের মাহবুবুল আলম, নোয়াখালী-৩ আসনের এইচ আর এম সাইফুল ইসলাম, লালমনিরহাট-১ আসনের আবু হেনা মো. এরশাদ হোসেন, নীলফামারী-৪ আসনের আখতার হোসেন বাদল, নীলফামারী-৪ আসনের মিনহাজুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আবুল হাশেম, কুড়িগ্রাম-১ আসনের মোহাম্মদ ওসমান গণি, ফেনী-৩ আসনের হাসান আহমদ, ময়মনসিংহ-১০ আসনের মোহাম্মদ হাবিবুল্লাহ, বগুড়া-২ আসনের মোহাম্মদ আবুল কাসেম, বাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনের নজরুল ইসলাম ভূঁইয়া, নড়াইল-১ আসনের মোহাম্মদ শাহাদাৎ হোসেন, সাতক্ষীরা-১ আসনের নুরুল ইসলাম।

অন্যান্য দলের যারা প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন:
জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডির সাতক্ষীরা-২ আসনের প্রার্থী মো. আফসার আলী, ন্যাশনাল পিপলস পার্টির পটুয়াখালী-১ আসনের সুমন সন্যামত, জাতীয় পার্টির মাদারীপুর-১ আসনের জহিরুল ইসলাম মিন্টু, জাতীয় পার্টির গাজীপুর-২ আসনের মো. মাহবুব আলম, একই আসনে মো. জয়নাল আবেদীন, জাতীয় পার্টির ব্রাহ্মবাড়িয়া-৩ আসনের জেসমিন নুর বেবী, রংপুর-৪ আসনের মোস্তফা সেলিম, বাংলাদেশ ইসলামীক ফ্রন্টের হাবিগঞ্জ-১ আসনে জুবায়ের আহমেদ, জাতীয় পার্টি ব্রাহ্মবাড়িয়া-৩ আসনের আব্দুল্লাহ আল হেলাল, বাংলাদেশ ইসলামিক ফ্রন্টের হাবিগঞ্জ-৪ আসনের মওলানা মোহাম্মদ ছোলাইমান খান রাব্বানী, নাটোর-৪ আসনে জাতীয় পার্টির মোহাম্মদ আলাউদ্দীন মৃধা, চাঁদপুর-৫ আসনে এলডিপি’র মোহাম্মদ নেয়ামুল বশির, কুড়িগ্রাম-৪ আসনের জাকের পার্টির শাহ আলম, জিনাইদহ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির কামরুজ্জামান স্বাধীন, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে ইসলামীক আন্দোলন বাংলাদেশে’র সৈয়স আনোর আহাম্মদ লিটন, ব্রাহ্মবাড়িয়া-৫ আসনে জাতীয় পার্টির মামুনুর রশীদ, ঢাকা-১৪ আসনে জাকের পার্টির জাকির হোসেন, ময়মনসিংহ-৮ আসনে এলডিপির এমএ বাশার, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে গণফোরামের মাহফুজার রহমান, কুড়িগ্রাম-৬ আসেন জাকের পার্টির মুহাম্মদ ফয়সাল বিন শালিক, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জাসদের আনিরসুর রহমান, কুমিল্লা-১১ আসনের জাকের পার্টির তাজুল ইসলাম বাবুল, কুমিল্লা-৫ আসনে ইসলামী ঐক্যজোটের মো. শাহ আলম, যশোর-৬ আসনে জাকের পার্টির সাইদুজ্জামান, নড়াইল-২ আসনে জেএসডি’র ফকির শওকত আলী, সিরাজগঞ্জ-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে’র আব্দুর রহমান, সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মো. হাবিবুর রাহমান, বগুড়া-২ আসনের বিএমএলের শফিকুল ইসলাম।

অন্যান্য দলের যেসব প্রার্থীদের আবেদন নামঞ্জুর হয়েছে:
জাতীয় পার্টির মাদারীপুর-৩ আসনের মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে বিকল্প ধারা বাংলাদেশের এসএম খলিলুর রহমান, নেত্রকোণা-১ আসনে বাংলাদেশ মুসলিম লীগের মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম, ময়মনসিং-২ আসনের জাপার মোহাম্মদ এমদাদুদল হক, খুলনা-২ আসনে জাপার এসএম এরশাদুজ্জামান।

বিএনপি ও স্বতন্ত্র ৪ প্রার্থীর আবেদন নিষ্পত্তি হয়নি:
গাইবান্ধা-৫ আসনের মো. নাজিমুল ইসলাম, কুড়িগ্রাম -৪ আসনের ইমান আলী, চট্টগ্রাম-৯ আসনের সামসুল আলম। এছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মধ্যে কুড়িগ্রাম-৪ আসনের আদিভ আলভীর আপিল আবেদনের নিষ্পত্তি হয়নি।

২ ডিসেম্বর মনোনয়নপত্র বাছাইয়ে ২ হাজার ২৭৯টি মনোনয়নপত্র বৈধ ও ৭৮৬টি অবৈধ বলে ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তারা। এগুলোর মধ্যে বিএনপির ১৪১টি, আ’লীগের ৩টি এবং জাতীয় পার্টির ৩৮টি মনোনয়নপত্র বাতিল হয়। স্বতন্ত্র প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল হয়েছে ৩৮৪টি।

৩৯টি দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থী মিলে এবার ৩০৬৫ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছিলেন। এর মধ্যে দলীয় মনোনয়নপত্র জমা পড়ে মোট ২ হাজার ৫৬৭টি ও স্বতন্ত্র ৪৯৮টি।

বাতিল হওয়া ৭৮৬টি মনোনয়নপত্রের বিপরীতে ৫৪৩টি আপিল আবেদন জমা পড়ে। বৃহস্পতিবার প্রথম দিনে ১৬০ জনের আপিলের শুনানি সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার ও শনিবার যথাক্রমে ১৫০ ও ২৩৩টি আবেদনের শুনানি হবে।

৯ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ সময়। ১০ ডিসেম্বর প্রতীক বরাদ্দ। ভোটগ্রহণ হবে ৩০ ডিসেম্বর।

আপনার মতামত লিখুন :