পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে আস্থা রাখার আহ্বান অভিভাবক-শিক্ষাবিদদের

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১২:০৭ এএম, ০২ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

প্রশ্নফাঁসের ঝড়ের মধ্য দিয়ে বিগত বছরগুলোতে পাবলিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। গত বছরের উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষার (এইচএসসি) পর থেকে তা অনেকাংশে রোধ করা সম্ভবপর হয়েছে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ আর নতুন পদ্ধতিতে পরীক্ষা নেওয়ায়। এতে শিক্ষাবিদ ও অভিভাবকদের মধ্যে সন্তোষ থাকলেও প্রশ্নফাঁসের সেই আতঙ্ক এখনো বিরাজ করছে তাদের মধ্যে।

অভিভাবকদের দাবি, প্রশ্নফাঁসবিহীন পরীক্ষা হোক। প্রশ্নফাঁসের সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে আসতে প্রশাসনসহ সংশ্লিষ্টদের আরও কড়াকড়ি হওয়ার আহ্বান তাদের। প্রশ্ন ফাঁসের গুজবে কান না দিয়ে পরীক্ষার্থীরা নিজের প্রস্তুতির উপর আস্থা-বিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেবে বলে মনে করছেন শিক্ষাবিদরা। তারা বলছেন, পরীক্ষার্থীরা বাস্তবতা বোঝেন, অপরাধীরা টাকা-পয়সার জন্য প্রশ্নফাঁসের গুজব ছড়ায়।

এবারের পরীক্ষা নিয়ে বৃহস্পতিবার (৩১ জানুয়ারি) শিক্ষামন্ত্রী ডা. দীপু মনি বলেন, ‘গত বছর যে পদ্ধতিতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়েছে তাতে কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হয়নি। এ বছর আমরা সেই পদ্ধতিটিকে আরও জোরদার করেছি। কাজেই আশা করছি, এ বছর কোনো প্রশ্নপত্র ফাঁস হবে না।’ প্রশ্নফাঁসের গুজবে কান না দিতে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী।

গত বার পরীক্ষায় একাধিক প্রশ্নপত্রের সেট ছিল। পরীক্ষার ২৫ মিনিট আগে মোবাইলফোনের এসএমএসের মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হতো কোনো সেটে পরীক্ষা হবে। এরপর প্যাকেটের সিলগালা খুলে প্রশ্নপত্র বিতরণ করা হতো।

প্রশ্নফাঁস রোধে শিক্ষা মন্ত্রণালয় তথা সংশ্লিষ্টদের বিগত পাবলিক পরীক্ষাগুলোর চেয়ে আরও কঠোর হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন অভিভাবক আব্দুর রহমান।

তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন ফাঁস যাতে না হয় সেজন্য আরও কড়াকড়ি পদক্ষেপ আশা করছি। এ অনৈতিক কাজ চলতে থাকলে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘পড়াশুনাটাই আসল শিক্ষা না। পারিপার্শ্বিক অবস্থা সবকিছু মিলেই শিক্ষা। আজকে যদি আমার বোনকে আমি প্রশ্নপত্র দিয়ে বললাম- তুমি এই সাবজেক্টে দুর্বল, এগুলো দেখে পরীক্ষা দাও।’

আব্দুর রহমান বলেন, ‘পরীক্ষার প্রশ্নপত্র এনে দেওয়াটাও মানসিক ব্যাধি, অবক্ষয়। প্রশ্নপত্র পেয়ে পরীক্ষা দেবে ঠিকেই, তবে পরীক্ষাও পাশ করবে কিন্তু সে বড় হতে পারলো না।’

অভিভাবকদের প্রতি আরও সচেতন হওয়ায় আহ্বান জানিয়ে এই অভিভাবক বলেন, ‘এই প্রশ্নপত্র ফাঁসের মাধ্যমে প্রজন্ম থেকে প্রজন্ম ধ্বংস হয়ে যাবে। এটা ব্যাধিতে পরিণত যাতে না হয় সকলেও এগিয়ে আসতে হবে।’

পরীক্ষার্থীদের নিজেদের প্রস্তুতির উপর আস্থা রেখে পরীক্ষা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক এই উপাচার্য অধ্যাপক আরেফিন সিদ্দিক আওয়ার বাংলাকে বলেন, ‘পরীক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান; তাদের যে প্রস্তুতি সেই প্রস্তুতির বাইরে কোনো ধরনের অপচেষ্টা যাতে না করে।’

‘গুজব ছড়াবে প্রশ্নপত্র ফাঁস হচ্ছে; প্রশ্ন পাওয়া যাচ্ছে- এর মধ্যে ছুটলে তোমাদের সময় নষ্ট হবে; মানসিকভাবে সংকীর্ণতা থাকবে। মানসিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হবে কিন্তু শেষ পর্যন্ত দেখা যাবে; প্রশ্নপত্র ফাঁস হয় নাই; প্রশ্নফাঁসের একটা বিভ্রান্তি ছড়ানো হয়েছে।’

‘শিক্ষার্থীরা যে প্রস্তুতি নিয়েছ, আস্থা ও বিশ্বাসের সাথে পরীক্ষার হলে যাবে, পরীক্ষা দেবে। প্রশ্নফাঁস সত্যি হোক আর গুজবে হোক; সেগুলো কোনো কাজে দেবে না। নিজেদের আস্থা-বিশ্বাসের মাধ্যমে পরীক্ষা দিয়ে ভালো ফল করলে সেটা সারাজীবনের জন্য কাজে লাগবে।’

উল্লেখ্য, শনিবার (২ ফেব্রুয়ারি) থেকে সারাদেশে শুরু হচ্ছে ২০১৯ সালের এসএসসি পরীক্ষা। এ পরীক্ষায় দেশের সবকটি বোর্ডে সর্বমোট পরীক্ষার্থী ২১ লাখ ৩৫ হাজার ৩৩৩ জন।

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন সক্রিয় অনলাইন প্রতিনিধি। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অপরাধ, সংবাদ নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :