পরিবর্তন আসছে চীনের অর্থনীতিতে

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৩৯ এএম, ৩০ জানুয়ারি ২০১৯

অর্থনীতিতে পরিবর্তন আনছে চীন, বিনিয়োগ কমছে আবাসন খাতে

বর্তমান বিশ্বে সবচেয়ে বেশি জনসংখ্যার দেশ চীন। অর্থনীতিতেও সারাবিশ্বে নিজেদের স্থান একেবারেই পোক্ত রেখেছে এশিয়ার এই পরাশক্তি। রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং সামরিক প্রায় সবক্ষেত্রেই সাবলম্বী দেশটির অর্থনীতির চাকা দীর্ঘদিন সচল রেখেছে তাদের আবাসন খাত।

নিজস্ব সরকারী ব্যবস্থাপনায় রিয়েল এস্টেট বা আবাসন খাতে ব্যবসার ব্যাপক প্রসারের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নয়ন(Economic Growth) গ্রাফকে ক্রমাগত উপরের দিকে নিয়ে গিয়েছিল মাও সে তুঙ এর দেশ। কিন্তু সময় বদলেছে, নতুন করে আমেরিকার সাথে বাণিজ্য যুদ্ধে জড়িয়ে যাবার পর অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য নতুন দিকে হাত বাড়ানোর কথা ভাবছেন চীনের প্রশাসন।

বিশেষ করে বিগত কয়েক বছরে চীনের সাধারণ জনগণের মাঝে গৃহ ঋণের পরিমাণ অধিক পরিমানে বেড়ে যাওয়ার কারণে মার্কিন অর্থনীতির সাথে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে যাবার সম্ভাবনা রয়েছে বহুগুণে। এ কারণেই চীনের নতুন দিনের ভাবনায় আবাসন খাত এখন খুব বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে না। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী প্রাধান্য পেতে পারে রেলওয়ে কিংবা প্রযুক্তির মত খাত। সেই সাথে ভারী শিল্পের প্রসারেও আরো বেশি নজর দিতে পারে বেইজিং।

আবাসন খাত দীর্ঘ দুই তিন দশক ধরেই চীনের অর্থনীতির সবচাইতে বড় চালিকাশক্তি বলে বিবেচিত হতো। গৃহস্থালি সম্পদ এবং বিপুল পরিমাণ জনগণের চাহিদা মেটাতে রীতিমতো উঠেপড়ে লাগে বিভিন্ন বেসরকারী আবাসন কোম্পানি। এবং এর ফলাফলও হাতেনাতে পেয়ে বসে রাষ্ট্রটি। বিশ্বের শীর্ষ অর্থনৈতিক ক্ষমতার জন্য আবাসন খাতের অবদানকে এখনো বড় মাপকাঠিতেই রাখছেন চীনের বিশেষজ্ঞরা।

কিন্তু, নিজেদের অজ্ঞাতে আরেক বিপদও বাড়িয়েছেন চীনের প্রশাসন। অতিরিক্ত বিনিয়োগের কারণে চীনের অনেক প্রদেশেই তৈরি হয়েছে ভুতুড়ে নগরী। রাজধানী শহর বেইজিং এর খানিক বাইরে গেলেই দেখা মিলবে এমন ভুতুড়ে নগরীর। যেখানে বসবাস উপযোগী অসংখ্য অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি থাকলেও রাজধানী থেকে দূরে থাকায় তা কারো দৃষ্টিতে আসছে না। একইসাথে বেড়েছে সাধারণ জনগণের মাঝে গৃহঋণের পরিমাণও।

চায়না ইকুইটি রিসার্চ সেন্টারের প্রধান জুংহেং লি নিজের সংস্থার পরিচালিত এক জরিপের ফলাফল বিশ্লেষণ করতে গিয়ে বলেন, চীনের প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ বসবাসের জন্য বিগত দশ বছরের মাঝে গড়ে ওঠা বিভিন্ন ফ্ল্যাট বা অ্যাপার্টমেন্টকে প্রাধান্য দিচ্ছেন। কিন্তু একই সাথে দুই বা তিন দশক আগে গড়ে ওঠা বিভিন্ন আবাসিক এলাকা ভাল অবস্থায় থাকা স্বত্ত্বেও পুরোপুরি জনশুন্য অবস্থায় রয়েছে।

লি বলেন, “চীনের বর্তমান নীতিনির্ধারকরা এ ব্যাপারে বেশ সতর্ক অবস্থায় আছেন। তারা সাধারণ জনগণের ঋণের বোঝা কমিয়ে আনতে দৃঢ় প্রতিজ্ঞ। এবং বেইজিং সাধারণের কাছে নতুনভাবে কোন ভুল বার্তা পৌঁছাতে দিবেন না যেহেতু আবাসন খাতে বর্তমানে ব্যয় আরো বেশি বেড়ে চলেছে।”

নতুন পরিকল্পনা অবকাঠামোগত উন্নয়ন

বিশ্বের ২য় বৃহত্তম অর্থনৈতিক শক্তি এবং আবাসন খাতে বিশ্বে প্রথম স্থানে থাকা রাষ্ট্র রাতারাতি অর্থনৈতিক উন্নয়ন পরিকল্পনায় পরিবর্তন আনতে চাইছে। কিন্তু কীভাবে?

চীনের কমিউনিস্ট পার্টির শাসনামলে এখন পর্যন্ত অর্থনৈতিক গতির ধারা অব্যাহত থাকলেও এই গতিপ্রকৃতি রীতিমতো প্রশ্নের মুখোমুখি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্রমাগত হুমকির মুখে প্রায় নিশ্চুপ অবস্থানে থেকেই নিজেদের গুছিয়ে নিতে চাইছে বেইজিং। কিন্তু এই অবস্থানের পরিবর্তন আনা প্রয়োজন। আর বিশেষজ্ঞদের কাছে আপাতত সমাধানের পথ একটাই। সেটি চীনের অবকাঠামোগত উন্নয়ন।

বর্তমানে চীনের রেল খাতে বেশ বড় কিছু পরিকল্পনা রয়েছে যা হয়ত অচিরেই চীনের অর্থনৈতিক সুদিন ফিরিয়ে আনবে। সুদিন বলা হচ্ছে এই বিবেচনায়, কারণ বিগত ২৮ বছরের মাঝে ২০১৮ সালেই চীনের জিডিপি প্রবৃদ্ধি সবচেয়ে কম ছিল। জিডিপি প্রবৃদ্ধি হলেও তা কোনভাবেই চীনের অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিলনা।

এছাড়া “মেইড ইন চায়না ২০২৫” প্রকল্পের আওতায় বেইজিং আশা করছে ২০২৫ সাল নাগাদ তারা প্রযুক্তি বিশ্বে সেরাদের আসনে থেকে নেতৃত্ব প্রদান করবে। যদিও এ ব্যাপারে শি জিং পিং সরকার কতখানি সাফল্য লাভ করবে তা পুরোপুরি নির্ভর করছে আবাসন খাত নিয়ে চীনের নতুন পরিকল্পনার উপরেই।

আপনার মতামত লিখুন :