নির্বাচনের ইশতেহার

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:০৭ এএম, ৩০ নভেম্বর ২০১৮

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোটগ্রহণ। ৩০ ডিসেম্বর সামনে রেখে চলছে ক্ষণগণনা এবং দল ও প্রার্থীদের হিসাব-নিকাশ। ক্ষমতায় গেলে দেশ ও জনগণের জন্য কী কী কাজ করা হবে- কয়েক দিনের মধ্যে সব দল নিজেদের ইশতেহার প্রকাশের মাধ্যমে তা তুলে ধরবে।

তবে হেরে গেলে কী করা হবে পরবর্তী ৫ বছরে, তা-ও ইশতেহারে তুলে ধরা জরুরি বলে মনে করি আমরা। এ পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিটি দলের ও ব্যক্তিগতভাবে প্রতিটি আসনের প্রার্থীর ইশতেহার হতে হবে টেকসই উন্নয়ন এবং জনগণের সার্বিক কল্যাণকামিতার পাশাপাশি একবিংশ শতাব্দীর চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করে দেশকে উন্নয়নশীল ও পর্যায়ক্রমে উন্নত দেশের দিকে নিয়ে যাওয়ার প্রতিজ্ঞা।

ইশতেহার একটি দলের দর্শন ও গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হলেও আমাদের দেশে দেখা যায় এটি ভোটে জয়লাভের লক্ষ্যের চেয়ে বেশি কিছু নয়। ফলে কোনোভাবে নির্বাচনের বাধা উতরে গেলে নিজেদের ইশতেহারের প্রতি জয়ী সরকারি দলের যেমন কোনো নজর থাকে না, তেমনি থাকে না পরাজিত বিরোধী দলেরও।

ফলে জনগণও তাদের দর্শন, লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ভুলে যায় ভোটের পরপরই। তাই জয়ী বা পরাজিত সব দলের উচিত পরবর্তী পাঁচ বছর নিজেদের ইশতেহারের আলোকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা, যাতে মানুষ তাদের কাজ মূল্যায়নের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে দেশ পরিচালনার ভার দেয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারে। এক্ষেত্রে দলগুলোর ইশতেহারে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক আচরণ, সবার সমান অধিকারের নিশ্চয়তা এবং জনগণের রায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর সুস্পষ্ট অঙ্গীকার থাকতে হবে।

অবশ্য জনগণের রায়ের সত্যিকারের প্রতিফলন যেন ভোটে ফুটে ওঠে এবং মানুষের ভোটাধিকারের সঠিক প্রয়োগ হয়, সংবিধানের আলোকে তা নিশ্চিত করতে হবে নির্বাচন কমিশন ও সরকারকেই। নির্বাচনী ইশতেহারে আইনের শাসনের নিশ্চয়তা, জনগণের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা, অর্থনৈতিক মুক্তি এবং সুষম ও ভারসাম্যমূলক অর্থনৈতিক উন্নয়নের অঙ্গীকার থাকতে হবে।

সংসদ কার্যকর রাখা, নিজেদের দেয়া প্রতিশ্রুতির বাস্তবায়ন, জবাবদিহি নিশ্চিত করা এবং বিরোধী দল বা প্রতিপক্ষকে রোষানলে না ফেলে পারস্পরিক সহযোগিতার মাধ্যমে দেশকে, দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নেয়ার বিষয়ে ইশতেহারে সুস্পষ্ট ঘোষণা থাকতে হবে। নির্বাচনে জয়ী হোক বা পরাজিত, কোনো ধরনের জ্বালাও-পোড়াও এবং সহিংস আচরণ করা হবে না- সব দল ও জোটের এমন প্রতিশ্রুতি ইশতেহারে অন্তর্ভুক্ত থাকা দরকার।

সংবিধান মোতাবেক বাকস্বাধীনতার ওপর জোর দিয়ে স্বাধীন মত দমনের কোনো পদক্ষেপ নেয়া হবে না এবং ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের আপত্তিকর ধারাগুলো বাতিলসহ কোনো ধরনের কালাকানুন করা হবে না মর্মে ইশতেহারে ঘোষণা থাকা বাঞ্ছণীয়।

মানসম্মত পড়ালেখার উন্নয়ন ও নিরক্ষরতা দূরীকরণে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া এবং শিক্ষিত বেকারত্ব কমিয়ে আনার পাশাপাশি কারিগরি ও প্রযুক্তিগত জ্ঞাননির্ভর শিক্ষিত জনশক্তি তৈরি, সর্বোপরি তরুণ সমাজকে সমৃদ্ধ ভবিষ্যতের পথ দেখানোর অঙ্গীকার ইশতেহারে থাকতে হবে।

ইশতেহার যেন মিথ্যার ফুলঝুরি না হয়ে সত্যিকারের জনবান্ধব হয় এবং দল ক্ষমতায় গেলে ইশতেহারের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নে জবাবদিহি নিশ্চিত করা হয়। এমনটি হলেই দেশ ও জনগণের কল্যাণে আসবে নির্বাচনী ইশতেহার, অন্যথায় নয়।

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন সক্রিয় অনলাইন প্রতিনিধি। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অপরাধ, সংবাদ নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :