ঢাকার সরকারি স্কুলে ভর্তি পরীক্ষার সূচি প্রকাশ

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৩:৫২ এএম, ০৪ ডিসেম্বর ২০১৮

ঢাকা মহানগরীর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে ২০১৯ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা আগামী ১৭ ডিসেম্বর থেকে শুরু হবে। শেষ হবে ১৯ ডিসেম্বর। এছাড়া আগামী ২০ ডিসেম্বর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়গুলোতে ১ম শ্রেণিতে ভর্তির লটারি সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত হবে।

সোমবার মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষার্থী ভর্তির বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেছে। এছাড়া গত রোববার ভর্তি নীতিমালাও প্রকাশ করেছে মাউশি।

ভর্তি পরীক্ষা সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আগামী ১৭ ডিসেম্বর ‘এ’ গ্রুপের বিদ্যালয়গুলোর এবং ‘বি’ গ্রুপের মোহাম্মদপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফিডার শাখার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২য় ও ৩য় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা, সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা এবং দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এছাড়া ১৮ ডিসেম্বর ‘বি’ গ্রুপের বিদ্যালয়গুলোর এবং ‘সি’ গ্রুপের ধানমন্ডি গভ. বয়েজ স্কুলের ফিডার শাখার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২য় ও ৩য় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা, সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা এবং দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

আর ১৯ ডিসেম্বর ‘সি’ গ্রুপের বিদ্যালয়গুলোর এবং ‘এ’ গ্রুপের খিলগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ফিডার শাখার ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। এ দিন সকাল ১০টা থেকে ১১টা পর্যন্ত ২য় ও ৩য় শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা, সকাল ১০টা থেকে ১২টা পর্যন্ত ৪র্থ ও ৫ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা এবং দুপুর ২টা থেকে ৪টা পর্যন্ত ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণির ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে।

এছাড়া আগামী ২০ ডিসেম্বর সরকারি স্কুলগুলোতে ১ম শ্রেণিতে ভর্তির লটারি অনুষ্ঠিত হবে। এদিন প্রভাতী শাখার পরীক্ষা সকাল ১০টায় এবং দিবা শাখার পরীক্ষা দুপুর ২টায় অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে বিদ্যালয়ের শূন্য আসনে ৯ম শ্রেণিতে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে।

ভর্তি নীতিমালা থেকে জানা গেছে, এবার ঢাকার ৪১টি উচ্চ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হবে। এগুলোকে তিন গ্রুপে ভাগ করে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালনা হবে। ৪১টি হাইস্কুলের মধ্যে ‘এ’ এবং ‘বি’ গ্রুপে ১৪টি করে এবং ‘সি’ গ্রুপে ১৩টি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩৮টি বিদ্যালয়ে ১২ হাজার ৩৬৬টি আসন রয়েছে।

যা বলা হয়েছে ভর্তি নীতিমালায়: সব মহানগরী, বিভাগীয় শহর ও জেলা সদরের সব সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অনলাইনে ভর্তি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। উপজেলা সদরেও কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন করা বাধ্যতামূলক। তবে নিয়ন্ত্রণবহির্ভুত কোনও কারণে অনলাইনে না করা গেলে কেবল উপজেলার ক্ষেত্রে ম্যানুয়ালি করা যাবে।

প্রথম শ্রেণিতে ভর্তি: প্রথম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য আবশ্যিকভাবে লটারির মাধ্যমে শিক্ষার্থী নির্বাচন করতে হবে। লটারির মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীর তালিকা প্রস্তুত করার পাশাপাশি শূন্য আসনের সমান সংখ্যক অপেক্ষমাণ তালিকাও প্রস্তুত রাখতে হবে। ভর্তি কমিটি নির্ধারিত তারিখে নির্বাচিত শিক্ষার্থী ভর্তি না হলে অপেক্ষমাণ তালিকা থেকে পর্যায়ক্রমে ভর্তি করা হবে।

দ্বিতীয়-অষ্টম শ্রেণির ভর্তি: দ্বিতীয় থেকে অষ্টম শ্রেণির শূন্য আসনে লিখিত পরীক্ষার মাধ্যমে মেধাক্রম অনুসারে ভর্তির জন্য শিক্ষার্থী বাছাই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে হবে। দ্বিতীয় থেকে তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পরীক্ষার প্রশ্নের পূর্ণমান ৫০। এর মধ্যে বাংলা ১৫, ইংরেজি ১৫ ও গণিত ২০ নম্বর। ভর্তি পরীক্ষার সময় ১ ঘণ্টা। চতুর্থ থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পূর্ণমান ১০০। এর মধ্যে বাংলা ৩০, ইংরেজি ৩০ এবং গণিত ৪০ নম্বর থাকবে। ভর্তি পরীক্ষার সময় ২ ঘণ্টা।

নবম শ্রেণির ভর্তি: নবম শ্রেণির ক্ষেত্রে জেএসসি-জেডিসি পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট বোর্ডের প্রস্তুত করা মেধাক্রম অনুসারে নিজ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী ভর্তির পর অবশিষ্ট শূন্য আসনে অন্য বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য নির্ধারিত ভর্তি কমিটির বাছাই করতে হবে। ভর্তির ফরম বিদ্যালয়ের অফিসে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ডিসি অফিস ও বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে।

কোটা সংরক্ষণ: ঢাকা মহানগরীতে সরকারি বিদ্যালয় এলাকায় ওই এলাকার ৪০ শতাংশ কোটা রেখে অবশিষ্ট ৬০ শতাংশ আসন সবার জন্য উন্মুক্ত থাকবে। ষষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তির ক্ষেত্রে মোট আসনের ১০ শতাংশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণি উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে।

মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা সন্তানদের ছেলেমেয়ের জন্য ৫ শতাংশ, প্রতিবন্ধীদের জন্য ২ শতাংশ, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তান এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের জন্য আরও ২ শতাংশ কোটা সংরক্ষণ করার কথা বলা হয়েছে।

বিদ্যালয়গুলোর অবস্থান, শিক্ষার্থীদের সুবিধা-অসুবিধা বিবেচনা করে পরীক্ষা কমিটি বিদ্যালয়গুলোকে বিভিন্ন ক্লাস্টারে বিভক্ত করতে পারবে। শিক্ষার্থীরা আবেদন ফরমে পছন্দক্রম উল্লেখ করে দেবে।

ভর্তি ফরম: ভর্তির ফরম বিদ্যালয়ের অফিসে এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর, ডিসি অফিস, বিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে পাওয়া যাবে। এবার ভর্তির আবেদন ফরমের মূল্য ধরা হয়েছে ১৭০ টাকা। সেশন চার্জসহ ভর্তি ফি শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্ধারিত থেকে বেশি হবে না।

আবেদন কার্যক্রম পরিচালিত হবে টেলিটকের মাধ্যমে www.dshe.gov.bd এবং www.teletalk.com সাইটের মাধ্যমে আবেদন করতে হবে। ঢাকা মহানগর এবং ঢাকার বাইরের প্রায় সাড়ে তিনশ’ স্কুলের ভর্তি কার্যক্রম আলাদাভাবে সম্পন্ন হবে। প্রথম শ্রেণির ভর্তিতে শিক্ষার্থীর বয়স জানুয়ারিতে ছয় বছরের বেশি হতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :