জাপার হ-য-ব-র-ল নির্বাচনী প্রচারণা

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৫:৫৭ পিএম, ১৮ ডিসেম্বর ২০১৮

ক্ষমতার স্বপ্নে বিভোর থাকা জাতীয় পার্টির (জাপা) নির্বাচনী প্রচারণায় হ-য-ব-র-ল অবস্থা। প্রার্থীরা যে যার মতো যতটুকু পারছেন সেভাবেই প্রচারণা চালাচ্ছেন।

কেন্দ্রের কোনো পরামর্শ বা সহায়তা কোনটাই পাচ্ছেন না প্রার্থীরা। অথচ এই সময়ে নির্বাচনী কৌশল নিয়ে কেন্দ্রের পরামর্শ খুবই জরুরি ছিল বলে দলটির প্রার্থীদের অনেকেই আওয়ার বাংলাকে জানিয়েছেন।

পার্টির চেয়ারম্যান হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ সিঙ্গাপুরে চিকিৎসাধীন, সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান রওশন এরশাদ তার নির্বাচনী এলাকা ময়মনসিংহ, কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের লালমনিরহাট, মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা রংপুর, সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য ব্যরিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদ চট্টগ্রামে অবস্থান করছেন।

অন্যদিকে এরশাদের অবর্তমানে জাতীয় পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত সদ্য বিদায়ী মহাসচিব এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদার তার প্রার্থিতা ফিরে পেতে কোর্টের বারান্দায় দৌড়-ঝাঁপ করছেন। নেতাকর্মীরা তার দেখা পাচ্ছেন না। ক্ষেত্র বিশেষে তিনি নিজেকে গোপন করে রাখছেন।

আর মাত্র ১১দিন পরেই নির্বাচন। কিন্তু প্রার্থীদের কোনো দিক নির্দেশনা ও পরামর্শ দেওয়া হয়নি। উন্মুক্ত আসনগুলোতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় প্রার্থীরা অনেকেই নানা রকম বাধার শিকার হচ্ছেন। তাদের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে, ক্যাম্পেইনে বাধা দেওয়া হচ্ছে। কিন্তু তারা কোনো রকম পরামর্শ বা করণীয় সম্পর্কে দিক নির্দেশনা পাচ্ছেন না।

জয়পুরহাট-২ আসনের প্রার্থী কাজী আবুল কাশেম রিপন আওয়ার বাংলাকে বলেছেন, ‘আমি এখন পর্যন্ত কেন্দ্রীয় কোনো গাইডলাইন বা পরামর্শ পাইনি। আমার এলাকায় নৌকার প্রার্থীর লোকজন আমাদের পোস্টার লিফলেট ছিঁড়ে ফেলছে। ক্যাম্পেইন করতে বাধা দিচ্ছে। কিন্তু এ বিষয়ে কেন্দ্রের সহায়তা বিশেষ প্রয়োজন।’

রিপন আরো বলেন, ‘কালাই, ক্ষেতলাল, আক্কেলপুর উপজেলা নিয়ে গঠিত জয়পুরহাট-২ আসনে। মোট ১৫টি ও ৩টি পৌরসভা রয়েছে। মাত্রাই ও পুনট ইউনিয়ন ও কালাই উপজেলায় কোনো প্রার্থীকে প্রচারণা করতে দেওয়া হচ্ছে না। পোস্টার লাগালেই ছিঁড়ে ফেলা হচ্ছে।’

দিনাজপুর-৪ (ফুলবাড়ি,পার্বতীপুর) আসনের প্রার্থী সোলায়মান সামি আওয়ার বাংলাকে বলেন, ‘আমি এখনও কেন্দ্র থেকে কোনো গাইড লাইন পাইনি। এখানে বেশ ভালো অবস্থা রয়েছে। সহায়তা পেলে ভালো রেজাল্ট নিয়ে ফিরতে পারব।’

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এখানে নির্বাচনী প্রচারণায় তেমন বাধা নেই। তবে রাতের আঁধারে পোস্টার ছিঁড়ে ফেলার ঘটনা রয়েছে। আমি রিটার্নিং অফিসারকে জানিয়েছি তিনি দেখবেন বলে আশ্বস্ত করেছেন।’

জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙা আওয়ার বাংলাকে বলেন, ‘আমরা তাদের প্রার্থী হতেও বলিনি। নির্বাচনও করতে বলিনি। তারা নিজেরাই আগ্রহী হয়ে প্রার্থী হয়েছেন। সে কারণে তাদের জন্য কোনো পরামর্শও দেয়া হয়নি।’

রাঙা আরো বলেন, ‘উনি (এরশাদ) এসব নিয়ন্ত্রণ করেন, ওনার অফিস এটা দেখার কথা। কিন্তু উনি অসুস্থ হয়ে দেশের বাইরে যাওয়ার কারণে একটু সমস্যা হয়েছে। ওনি দেশে ফিরলে হয়তো কিছু গাইড লাইন দেওয়া হবে।’

কবে দেশে ফিরবেন এমন প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘শুনেছি ২২ ডিসেম্বর দেশে ফিরতে পারেন।’

পার্টির কো-চেয়ারম্যান জিএম কাদের আওয়ার বাংলাকে বলেন, ‘আমাকে এ রকম কোনো দায়িত্ব দেয়নি। আমি আমার নিজের ভোট নিয়ে ব্যস্ত আছি। আমার মতো অন্যরাও নিজের ভোটের জন্য স্ব-স্ব এলাকায় অবস্থান করছেন।’

পার্টির সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত এবিএম রুহুল আমিন হাওলাদারকে একাধিক দফায় ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন সক্রিয় অনলাইন প্রতিনিধি। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অপরাধ, সংবাদ নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :