ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ রাখে যে গাছগুলো

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১১:১১ এএম, ১০ এপ্রিল ২০১৯

গাড়ির ধোঁয়া কিংবা কারখানার বর্জ্য প্রতিনিয়ত বাতাসকে করে চলছে দূষিত। বিশেষ করে যারা শহর অঞ্চলে এই দূষণের মাত্রা খুব বেশি। যারা শহরে বাস করেন নিঃশ্বাসের সাথে তাদের গ্রহণ করতে হয় নানা বিষাক্ত কেমিক্যাল। বাতাসে ভেসে থাকা এসব কেমিক্যাল শুধু ঘরের বাইরেই থাকে না বরং বিষাক্ত করে তোলে ঘরের ভেতরের পরিবেশকে। এই বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থগুলো সম্পর্কে বেশিরভাগ মানুষের মধ্যে নেই কোন ধারণা। তেমনি হয়তো অনেকের জানা নেই কিছু কিছু গাছ আছে যা ঘরের বাতাসকে বিষাক্ত কেমিক্যালের হাত থেকে মুক্ত করে তোলে। তেমনই কয়েকটি গাছ সম্পর্কে চলুন জেনে নেওয়া যাক।

অ্যালোভেরা

অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী গাছটিকে চেনেন না কম মানুষই আছেন। এই গাছটির অনেক গুণ রয়েছে। বিশেষ করে রূপচর্চায় এই গাছ নানা কাজে আসে। এই গাছের রয়েছে বেশ কিছু ঔষধি গুণ। তবে এই গাছের এমন একটি গুণ রয়েছে যা সত্যিই অবাক করার মতন। ঘরের বাতাস বিশুদ্ধ করতেও অ্যালোভেরার রয়েছে বিশেষ ক্ষমতা। এই গাছটি বাতাসে মিশে থাকা ক্ষতিকারক কেমিক্যাল বেনজিন ও ফরমালডিহাইড দূর করে ঘরের বাতাসকে করে তুলে বিশুদ্ধ।

ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে এলোভেরা বেশ কার্যকরী। (ছবি : সংগৃহীত)

বাতাসে ভেসে থাকা ক্ষতিকর কেমিক্যালের মাত্রা যখন খুব বেড়ে যায় তখন অ্যালোভেরার পাতায় ছোট ছোট বাদামি দাগ পড়ে। ফলে ঘরে থাকা বিষাক্ত জিনিসের মাত্রা সম্পর্কে সচেতন হওয়া যায়। এই গাছটির খুব বেশি যত্ন নেওয়ার দরকার পড়ে না। ভাল দেখে একটি টবে গাছটি রোপণ করে নিয়মিত পানি দিলেই এটি দ্রুত পরিবেশের সাথে খাপ খেয়ে নেয়। তবে অ্যালোভেরার যত্নে একটি ব্যাপার অবশ্যই মাথায় রাখতে হবে। পর্যাপ্ত সূর্যের আলো যেন পায় সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। কারণ পর্যাপ্ত আলো পেলেই অ্যালোভেরা গাছ ভাল মতো বেড়ে উঠে।

ফার্ন

ঘরের বাতাসকে বিশুদ্ধ করতে আরেকটি কার্যকরী গাছ হচ্ছে ফার্ন। এই গাছটি অন্যান্য কেমিক্যালের চেয়ে ফরমালডিহাইড দূর করতে বেশি শক্তিশালী। বিশেষ করে কাঠের আসবাবপত্রে থাকা ফরমালডিহাইড দূর করতে এই গাছ খুবই কার্যকরী। এছাড়াও ক্ষতিকর কেমিকেল জাইলিন ও টলুইন দূর করতেও ফার্ন বিশেষ ভূমিকা রাখে।

বাতাস পরিশুদ্ধতায় ফার্ন অনেক উপকারী। ( ছবি : সংগৃহীত)

ভিন্ন ভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, মাটিতে থাকা নানা রকম বিষাক্ত পদার্থ যেমন মার্কারি কিংবা আর্সেনিক দূর করতেও এই গাছ বেশ উপকারী। এই গাছ বড় হয় খুব তাড়াতাড়ি। অপুষ্পক এই উদ্ভিদ ঘরের দেয়ালে ঝুলিয়ে কিংবা বারান্দায় রাখা যায়। একটু ভাল আলো বাতাস পেলে ফার্ন গাছ খুবই দ্রুত শাখা প্রশাখা বিস্তার করে তোলে।

ব্যাম্বো পাম

টবে চাষ করা যায় পাম প্রজাতির গাছ হলো ব্যাম্বো পাম। এই ঘাসগুলো ৩ থেকে ৬ ফুট লম্বা হয়ে থাকে। মোটামুটি মাঝারি সাইজের একটি টবে ঘরের কোণে এই গাছ লাগানো যায়। ঘরের সৌন্দর্য বাড়ানোতে এই গাছ যেমন অতুলনীয় তেমনি পরিবেশ রক্ষায়ও সমান কাজ করে। ট্রাই ক্লোরোইথিলিন, বেনজিনসহ আরও বেশ কিছু ক্ষতিকর বিষাক্ত কেমিক্যাল দূর করে বাতাসকে বিশুদ্ধ করে তুলতে পারে এই উদ্ভিদ।

Young sprout of Ribbon dracaena tree grown-up Lucky bamboo. Selective focus

ব্যাম্বোপাম ঘরের শোভা বর্ধনের পাশাপাশি বাতাসকেও বিশুদ্ধ করে। ( ছবি : সংগৃহীত)

এই উদ্ভিদের যত্ন অন্যসব গাছের মত করে নেওয়া যাবে না। সরাসরি সূর্যের আলোর সংস্পর্শে এই গাছ টিকে থাকতে পারে না। আলো আছে কিন্তু সরাসরি সূর্যের আলো পড়ে না এমন স্থান এই উদ্ভিদের জন্য উপযুক্ত। টবের মাটি সব সময় ভিজিয়ে রাখতে হবে পানি দিয়ে। পরিপূর্ণ বৃদ্ধির জন্য তরল সার দিতে হবে মাসে একবার।

স্ন্যাক প্ল্যান্ট

এই গাছ অন্ধকার এবং জলীয়বাষ্পপূর্ণ জায়গায় ভালভাবে বেড়ে উঠে। তাই অনেকে এই গাছকে টবে রোপণ করে বাথরুম বা এর আশেপাশে রেখে দেন। এই গাছ অনেক ক্ষতিকর কেমিক্যালকে দূর করে বাতাস থেকে। বিশেষ করে ফরমালডিহাইড আর কার্বন মনোঅক্সাইড দূর করতে এই গাছের জুড়ি নেই। তবে এই গাছের পাতা যতই ধারালো হোক এর সবচেয়ে বড় গুণ হলো রাতে এই গাছ অক্সিজেন সরবরাহ করে বেশি। ঘুমের পরিবেশকে ভাল রাখতে শোবার ঘরে এই গাছ রাখেন অনেকেই।

সহজেই ঘরের মধ্যে রাখতে পারেন স্ন্যাক প্ল্যান্ট। ( ছবি : সংগৃহীত)

মানি প্ল্যান্ট

মোটামুটি পরিচিত একটি গাছ মানিপ্ল্যান্ট। এই গাছটি শুধুমাত্র মাটিতে কিংবা পানিতে লাগাতে পারেন। দ্রুত বেড়ে উঠে আর অনেক সহজেই সংগ্রহ করা যায় বলে এই গাছটির চাহিদা রয়েছে সবার কাছেই। গাছটি উজ্জ্বল আলোতে ভালো বাড়লেও অন্ধকারেও এই গাছ একই রকম সবুজ থাকে। ঘরের শোভা বাড়াতে এই গাছ বেশি ব্যবহার করা হয়। অনেকে অফিসের টেবিলেও যত্ন করে রাখেন এই গাছটিকে।

মানি প্ল্যান্ট গাছ সব জায়গাতেই মানানসই। (ছবি : সংগৃহীত)

একটি কাঁচের জারে পানি দিয়ে রেখে দিলেই এই গাছ আপনা আপনি বেড়ে ওঠে। তবে অনেকেই হয়তো জানেন না এই গাছটি ঘরের পরিবেশকে রাখে বিশুদ্ধ। বিশেষ করে ক্ষতিকারক ফরমালডিহাইড দূর করতে এই গাছ বেশ ভালো ভূমিকা রাখে।

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন অনলাইন প্রতিনিধি। লাইফস্টাইল বিষয়ক ফ্যাশন, স্বাস্থ্য, ভ্রমণ, নারী, ক্যারিয়ার, পরামর্শ, এখন আমি কী করব, খাবার, রূপচর্চা ও ঘরোয়া টিপস নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :