কোন দল কত আসন পাবে অনুমান করল আরডিসি

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৬:৩৭ এএম, ২৭ ডিসেম্বর ২০১৮

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন মহাজোট ২৪৮টি আসনে জয়ী হতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সেন্টার (আরডিসি)। জরিপ সংস্থাটি ৯ থেকে ১৬ ডিসেম্বর দেশের ৫১টি সংসদীয় আসনের ২ হাজার ২৪৯ ভোটারের ওপর জরিপ চালিয়ে এ আভাস দিয়েছে।

বেসরকারি সংস্থা আরডিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ৩০ ডিসেম্বর জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপিকে নিয়ে গঠিত জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট ৪৯টি আসনে জয়ী হতে পারে। বাকি তিনটি আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জয় দেখছে আরডিসি।

আরডিসির হয়ে জরিপ পরিচালনায় যুক্ত মার্কিন পরামর্শক ফরেস্ট ই কুকসন বুধবার রাজধানীর একটি হোটেলে জরিপের ফলাফল তুলে ধরেন। তার বিজনেস কার্ডে বলা হয়েছে, তিনি ডেভেলপমেন্ট ইন ডেমোক্রেসি নামে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি গবেষণা সংস্থার অর্থনীতিবিদ।

বাংলাদেশে বিভিন্ন গবেষণা ও জরিপ সংস্থার পাশাপাশি পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) বিভিন্ন জরিপেও পরামর্শক হিসেবে কাজ করেছেন বলে অনুষ্ঠানে জানান তিনি।

জরিপে ভোটারদের ৬০ শতাংশ আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে। বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টকে ভোট দিয়েছে ২২ শতাংশ ভোটার। ১০ শতাংশ মানুষ সিদ্ধান্ত জানাতে পারেননি। জাতীয় পার্টির পক্ষে ভোট পড়েছে ৪ শতাংশ। ৩ শতাংশ ভোটার ভোট দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছেন। তবে জরিপে অংশ নেয়া ৯৮ শতাংশ ভোটার বলেছেন তারা একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ভোট দিতে চান। জরিপে ভোট দিতে নারীদের জন্য ছিল লাল ব্যালট পেপার এবং পুরুষদের জন্য ছিল নীল ব্যালট পেপার। ২০১১ সালের আদমশুমারির তথ্যগুলো নমুনা হিসেবে নিয়ে দৈবচয়নের ভিত্তিতে দেশের জেলা-উপজেলাগুলোতে এ জরিপ করা হয়। প্রশ্ন ছিল, ‘আজ যদি নির্বাচন হয়, তবে কার জন্য ভোট দেবেন?’

জরিপের সময় ভোট দেয়ার পাশাপাশি রাজনৈতিক দলগুলো সম্পর্কে মতামত দিয়েছেন ভোটাররা। আওয়ামী লীগকে ভালো বলেছে ৬৪ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এবং খারাপ বলেছে ৩ দশমিক ৫ শতাংশ মানুষ। বিএনপিকে ভালো বলেছে ২৭ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ এবং খারাপ বলেছে ১৮ দশমিক ২ শতাংশ মানুষ।

জাতীয় পার্টিকে ভালো বলেছে ১৪ দশমিক ৯ শতাংশ এবং খারাপ বলেছে ১৫ দশমিক ৮ শতাংশ মানুষ। ফলাফল তুলে ধরে আরডিসির অর্থনীতিবিদ ফরেস্ট ই কুকসন বলেন, গ্রামীণ নারী থেকে সেনাবাহিনীর সদস্য সব শ্রেণী, পেশা ও বয়সের মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে। নমুনার সংখ্যা একটু ছোট। কত জেলা বা উপজেলায় এ জরিপ করা হয়েছে, তা আমি এখন বলতে পারছি না। তবে দেশের প্রত্যেক অঞ্চলের ভোটারদের মতামত নেয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

তিনি বলেন, রাজনৈতিকভাবে নিরপেক্ষ হয়ে নির্বাচনের সম্ভাব্য ফলাফল জানতে এ জরিপ করা হয়। গণতান্ত্রিক দেশগুলোতে নির্বাচনের আগে এ ধরনের জরিপের রেওয়াজ আছে। জাতীয় নির্বাচনে ভোটারের সংখ্যার তুলনায় জরিপের নমুনার সংখ্যা কম বলে মনে করেন কিনা, এমন প্রশ্নে কুকসন বলেন, জরিপটির নমুনা ছোট। তবে যুক্তরাষ্ট্রেও এ ধরনের জরিপ হয়, যেখানে নমুনার সংখ্যা থাকে ১ হাজার।

ভোটারদের মতামত সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, নির্বাচনে সহিংসতা বা দ্বন্দ্ব যাই হোক না কেন, সেটা হয়তো ভোটারদের ওপর প্রভাব ফেলবে। কিন্তু ভোটারদের পছন্দ একই থাকবে। সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের উত্তরে কুকসেন বলেন, আমরা নিরপেক্ষভাবেই এ জরিপ পরিচালনা করেছি।

জরিপের জন্য ভোটারদের কাছে ব্যালট পেপার দিয়েছি। সেই ব্যালটে তারা ভোট দিয়েছেন। জরিপে আরও বলা হয়েছে, ২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে যেখানে মহাজোট ভোট পেয়েছিল ৫৭ শতাংশ। বিএনপি জোট পেয়েছিল ৩৭ শতাংশ ও অন্যরা পেয়েছিল ৬ শতাংশ ভোট। এবারের জরিপ তারই ধারাবাহিকতা।

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন সক্রিয় অনলাইন প্রতিনিধি। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অপরাধ, সংবাদ নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :