উচ্চরক্তচাপ নীরব ঘাতক

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ১০:৪৯ এএম, ১১ ডিসেম্বর ২০১৮

রক্তচাপ ধমনী, শিরা তথা রক্তনালির আকারের ওপর নির্ভর করে। রক্তনালি সংকীর্ণতর হলে শরীরের বিভিন্ন অংশে একই পরিমাণ রক্ত সরবরাহের জন্য হৃদযন্ত্রকে অপেক্ষাকৃত বেশি কাজ করতে হয় এ বেশি চাপ দেয়ার অবস্থাকেই উচ্চরক্তচাপ বলে।

উচ্চরক্তচাপ কি কি কারণে হতে পারে : ৩০-৫০ বছর বয়সে সাধারণত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যা দেখা দেয়। পুরুষের উচ্চ রক্তচাপের প্রবণতা ও প্রকটতা নারীদের চেয়ে বেশি। গর্ভকালীন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়ি গ্রহণকালে নারীদের উচ্চরক্তচাপ হতে পারে। যাদের ওজন উচ্চতার তুলনায় বেশি, তাদের উচ্চরক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনাও বেশি। পরিবারের কোনো আত্মীয়ের (যেমন- বাবা-মা) উচ্চরক্তচাপ থাকলে উচ্চরক্তচাপ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি।

উচ্চরক্তচাপ শরীরে কি কি ক্ষতি করতে পারে :

১. স্ট্রোক (মস্তিষ্কে রক্ত ক্ষরণ বা মস্তিষ্কের কোষ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া)

২. হার্ট অ্যাটাক

৩. হার্ট ফেইলিউর

৪. কিডনি ফেইলিউর

৫. চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া

৬. রক্তনালি শক্ত হয়ে যাওয়া

৭. রক্তনালিতে ব্লক হওয়া

৮. যৌন কাজে অক্ষমতা

উচ্চরক্তচাপ ও হৃদরোগের সম্পর্ক কি : উচ্চরক্তচাপ দীর্ঘমেয়াদি অনিয়ন্ত্রিত থাকলে হৃদযন্ত্রের করোনারি ধমনীতে চর্বির আস্তর জমে ব্লকেজ হতে পারে, ফলে হৃদযন্ত্রের মাংসপেশিতে রক্ত সরবরাহ কম হলে মাংসপেশিতে অক্সিজেন ও খাবার ঘাটতি দেখা দেয়, এতে হৃদযন্ত্রের মাংসপেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয় ও হৃদযন্ত্রের কার্যক্ষমতা কমে যায়। ফলে এনজাইনা বা বুকে ব্যথা এমনকি হার্ট ফেইলিউর পর্যন্ত হতে পারে।

লক্ষণ : অধিকাংশ ক্ষেত্রে অর্থাৎ ৫০ ভাগেরও বেশি ক্ষেত্রে কোনো লক্ষণ বা রোগীর কোনো কষ্ট নাও থাকতে পারে কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি রক্তচাপ অনিয়ন্ত্রিত থাকলে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে, এজন্য উচ্চ রক্তচাপকে নীরব ঘাতক বলা হয়। অন্য কোনো কারণে চিকিৎসকের কাছে পরামর্শের জন্য গেলে রক্তচাপ মাপলে উচ্চরক্তচাপ রোগ ধরা পড়ে। উচ্চরক্তচাপ হলে যে যে লক্ষণগুলো হতে পারে সেগুলো হল মাথা ব্যথা, বমি বমি ভাব, চোখে ঝাপসা দেখা, মাথা ঝিমঝিম ভাব, ঘুম কম হওয়া, শ্বাসকষ্ট, নাক দিয়ে রক্ত পড়া ইত্যাদি।

উচ্চরক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে জীবনযাত্রার কি কি পরিবর্তন করতে হয় : ওজন কমিয়ে আদর্শ ওজন বজায় রাখা, স্বাস্থ্যকর খাবার বা ড্যাশ ডায়েট অবলম্বন করা, খাবারে লবণের পরিমাণ কমিয়ে আনা, অধিক পটাসিয়াম যুক্ত খাবার খাওয়া, নিয়মিত ব্যায়াম করা ও মদ্যপান পরিহার করলে ওষুধ ছাড়াও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রক্তচাপ কমানো সম্ভব। নিয়মিত ওষুধ খেতে হবে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ করতে হবে। ধূমপান বন্ধ করতে হবে। নির্দিষ্ট সময় পরপর আপনার চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

আপনার মতামত লিখুন :