আলোচনায় এবার ‘মন্ত্রিসভা’

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০৭:৩৪ এএম, ০১ জানুয়ারি ২০১৯

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শেষ। নির্বাচনে আওয়ামী লীগের পরের অবস্থানে আছে তাদের নির্বাচনী শরিক জাতীয় পার্টি। তৃতীয়স্থানে আছে বিএনপির নেতৃত্বাধীন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট।

নির্বাচনের ভোটের আলোচনার পর দৃষ্টি এখন মন্ত্রিসভার দিকে। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন সরকারের মন্ত্রিসভা কেমন হতে পারে? কোন চমক থাকছে কি-না? এই আলোচনা এখন নানা মহলে।

বেসরকারি ফলাফলে, আওয়ামী লীগ ২৫৭, জাতীয় পার্টি ২২, বিএনপি ৫,গণফোরাম ২, বিকল্পধারা ২, ওয়ার্কার্স পার্টি ২, জাসদ ২, তরিকত ফেডারেশন ২, জেপি ১, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৪টি আসনে জয়ী হয়েছেন। নির্বাচনী সহিংসতার কারণে স্থগিত করা হয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচন। অন্যদিকে ঐক্যফ্রন্ট প্রার্থীর মৃত্যূতে নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে গাইবান্ধা-৩ আসনের নির্বাচন।

আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এই মুহূর্তে নবনির্বাচিত এমপিরা এলাকায় অবস্থান করছেন। দু’একদিনের মধ্যেই তারা ঢাকায় চলে আসবেন। এক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিতে পারেন আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এরপরই মন্ত্রীসভার বিষয়টি সামনে আসবে।

শেখ হাসিনার মন্ত্রীসভায় মানেই নিত্যনতুন চমক। যার শুরুটা হয়েছিল ১৯৯৬ সালে। নির্বাচনে জয়ী হয়ে শেখ হাসিনা প্রথম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন ওই বছরের ২৩ জুন। সে সময় প্রধানমন্ত্রী প্রথম সর্বদলীয় সরকার গঠনের আগ্রহ প্রকাশ করে বলেছিলেন, আমরা সকলে মিলে দেশটাকে এগিয়ে নিতে চাই। তখন জাতীয় পার্র্টির ১ জন, জাসদের ১ জন এমপি মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন। মাঝামাঝি সময়ে এসে বিএনপি’র দু’জন নেতা মন্ত্রিসভায় যোগদান করেন। যদিও তাদেরকে বিএনপি দল থেকে বহিস্কার করে দেয়।

২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বর নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে দ্বিতীয় মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন শেখ হাসিনা। তখন মহাজোটের শরিক দলগুলোকে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করেন।

দশম সংসদ নির্বাচনে জয়ী হয়ে ২০১৪ সালের ১২ জানুয়ারি তৃতীয় দফায় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন। ওই সময়েও মন্ত্রিসভায় প্রধান বিরোধীদল জাতীয় পার্টির ৩ জন, ওয়ার্কার্স পার্টি, জাসদ ও জেপির একজন করে নিয়ে মন্ত্রিসভা গঠন করে চমক দেখান।

একাদশ সংসদেও  বিপুলসংখ্যক আসন নিয়ে শপথ নিতে যাচ্ছে আওয়ামী লীগ। মন্ত্রিসভায় এবার রাজপথের বিরোধীদল বিএনপি তথা ঐক্যফ্রন্ট থেকে কেউ থাকছে কি-না সে গুঞ্জন নানা মহলে। আবার জাতীয় পার্টি বিরোধীদল হলে গতবারের মতো মন্ত্রিসভায় থাকবেন কি-না সে বিষয়ে চলছে নানা রকম মুখরোচক আলোচনা। তাদের শরীকদল থেকে কে কে থাকছেন সে নিয়েও অনেক হিসেবে নিকেশ। গতবারের কোনো মন্ত্রী বাদ পড়ছেন? নতুন কে বা আসছেন? মন্ত্রিসভার আকার কেমন হবে তা নিয়েও শুরু হয়েছে জল্পনা-কল্পনা।

কেমন মন্ত্রিসভা চাই?

আওয়ামী লীগের মন্ত্রিসভা নিয়ে মানুষের মধ্যে দারুণ আগ্রহ। তারা যেমন গত মন্ত্রীসভার বিতর্কিতদের এবার দেখতে চাননা। ঠিক তেমনি তরুণ-প্রবীণের সমন্বয়ের তৈরি একটি কার্যকর ও দায়িত্বশীল মন্ত্রিসভা চান। যারা হবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরীক্ষিত, জনমানুষের প্রতি অনুভূতিপ্রবণ ও জবাদিহিতায় উৎসাহী।

মন্ত্রিসভা নিয়ে জানতে চাইলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আ আ ম স আরেফিন সিদ্দিক বার্তা২৪কে বলেন, আওয়ামী লীগ যে বিশাল ম্যান্ডেট পেয়ে নির্বাচনে জয় লাভ করেছে এবার তাদের জনগণের সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে হবে। আর সেজন্য আওয়ামী লীগের ইশতেহারে আগামী পাঁচবছরের কর্মপরিকল্পনা সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। সেই ইশতোহার  অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সমাজকে দুর্নীতিমুক্ত করা। যেটাকে বলে দুর্নীতির বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স‘। আমি চাই মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় পরীক্ষিত ব্যক্তিরাই মন্ত্রিসভায় স্থান পাক।

মন্ত্রিসভা গঠনের ক্ষেত্রে নবীণ ও প্রবীণের সমন্বয়ের কথা তুলে ধরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শান্তা তাওহিদা বার্তা২৪কে বলেন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী নির্বাচনের সময় ব্যক্তির পড়াশুনা, কর্মক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা, বিশেষত্ব এই বিষয়গুলোও গুরুত্বদিয়ে দেখা দরকার। সেটা হলে নেতৃত্বের সফলতা দেখতে পাব।

এদিকে মন্ত্রিসভায় তারুণ্যের প্রাধান্য চান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ইমতিয়াজ আহমেদ। তিনি বলেন, নওফেল, মাশরাফি, তন্ময়ের মত তারুণ্যকে মনোনয়ন দিয়ে যেমন আওয়ামী লীগ চমক দেখিয়েছে তেমনি মন্ত্রিসভা গঠনে তরুণদেরও প্রাধান্য দেওয়া হোক। এটা তরুণদের অনুপ্রাণিত করবে।

ফ্রিল্যান্স কলামিস্ট শরিফুল হাসান বার্তা২৪কে বলেন, ‘আমরা এবার অতীতের কোনো ব্যর্থ, কোন বিতর্কিতকে, কোন দুর্নীতিবাজকে মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই না। তার চেয়ে বরং তরুণদের মন্ত্রিসভায় দেখতে চাই। মন্ত্রিসভায় সত্যিকারের সৎ ও ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়ন করুন। আর যারাই মন্ত্রী হবে বলে দিন, ব্যর্থ হলে দায় নিয়ে সঙ্গে সঙ্গেয পদত্যাগ করতে হবে। এবার জবাবদিহিতার সংস্কৃতি দেশে তৈরি করতে দেশে।’

প্রিয় পাঠক, আপনিও হতে পারেন আওয়ার বাংলা অনলাইনের একজন সক্রিয় অনলাইন প্রতিনিধি। আপনার আশেপাশে ঘটে যাওয়া ঘটনা, অপরাধ, সংবাদ নিয়ে লিখুন এবং সংশ্লিষ্ট বিষয়ে ছবিসহ মেইল করুনঃ [email protected] এই ঠিকানায়। লেখা আপনার নামে প্রকাশ করা হবে।

আপনার মতামত লিখুন :