অজানা গুণে ভরপুর সহজলভ্য লাউ

  প্রকাশিত হয়েছেঃ  ০২:২৩ এএম, ২৫ ফেব্রুয়ারি ২০১৯

চিরপরিচিত সবজি লাউ নিয়েই গাওয়া হয়েছে বিখ্যাত গান ‘সাধের লাউ’।

এই সবজিকে না চিনে উপায় আছে কী! গ্রামাঞ্চল তো বটেই, শহরের বাজারগুলোতেও সুসজ্জিত ও ফ্রেশ লাউয়ের দেখা পাওয়া যাবে সহজেই। লাউকে সকলে দেশীয় সবজি হিসেবে চিনলেও, সবজিটির আদি নিবাস হলো আফ্রিকায়।

সবজিটি যেখানকারই হোক না কেন, পর্যাপ্ত পুষ্টিগুণের জন্য অনন্য এই সবজিটি নিত্যদিনের খাদ্যাভাসে রাখতেই হবে। বিশেষত সামনেই আসছে গ্রীষ্মকাল। এই সময়ে শরীরকে সুস্থ রাখতে চাইলে এবং পানিস্বল্পতার হাত থেকে দূরে থাকতে চাইলে, পানি পান ও উপকারী ফল গ্রহণের পাশাপাশি সবজি হিসেবে রাখতে হবে লাউ। চলুন জেনে নেওয়া যাক পরিচিত লাউয়ের চমৎকার কিছু স্বাস্থ্য উপকারিতা।

শরীরকে ঠাণ্ডা ও আর্দ্রতাপূর্ণ রাখতে সাহায্য করে

অন্যান্য যেকোন সবজির মতো লাউও স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী। তবে এই সবজিটির ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম হলো, সবজিটির ৯২ শতাংশই হলো পানি। যা শরীরকে পানিস্বল্পতার হাত থেকে রক্ষা করে। এছাড়া বিভিন্ন ধরণের ভিটামিন ও মিনারেল পূর্ণ এই সবজিটি পেটের সমস্যা ও অ্যাসিডিটির সমস্যায় উপকারী ভূমিকা পালন করে।

ওজনকে নিয়ন্ত্রণে আনতে কাজ করে

আপনি যদি ওজন কমানোর জন্য প্ল্যান করে থাকেন, তবে খাদ্য তালিকায় লাউ রাখুন। পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ সমৃদ্ধ লাউ দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়া একেবারেই ফ্যাটবিহীন এই সবজিটি খাওয়া যাবে ইচ্ছামতো। কোন বাধা নেই সেক্ষেত্রে। এমনকি আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও ওজন কমানোর জন্য লাউ খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়।

প্রয়োজনীয় পুষ্টিগুণে ভরপুর

একেবারেই বিস্বাদ এই সবজিটি থেকে পাওয়া যাবে প্রয়োজনীয় সকম ধরণের ভিটামিন। যেমন- ভিটামিন- সি, বি-কমপ্লেক্স, এ, ই, কে প্রভৃতি। এছাড়া মিনারেলের মাঝে পাওয়া যাবে ফলেট, ফলিক অ্যাসিড, ওমেগা-৬ ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, আয়রন, পটাশিয়াম ও ম্যাংগানিজ। এই সকল পুষ্টি উপাদানগুলো শরীরের মেটাবলিজম বৃদ্ধিতেও অবদান রাখে।

পেটের সমস্যা দূর করে

প্রথমেই বলা হয়েছে লাউ থেকে পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণ পানি ও আঁশ। এই দুইটি উপকার উপাদান একইসাথে ডায়রিয়া ও কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের সমস্যা মোকাবিলা করে। এছাড়া পরিপাকতন্ত্র পরিষ্কার করতে এবং বাওয়েল মুভমেন্টেও লাউ সাহায্য করে।

ডায়বেটিস নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে

নিয়ন্ত্রণহীন ডায়বেটিসকে নিয়ন্ত্রণের মাপকাঠিতে আনার জন্যে করলার তিতা রস পান করেন অনেকেই। করলার পরিবর্তে লাউয়ের রস পানেও একই রকম উপকারিতা পাওয়া যাবে। লাউয়ের রস ডায়বেটিস রোগীদের রক্তে চিনির মাত্রাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে ও রক্তচাপকে স্বাভাবিক রাখতে কাজ করে। লাউয়ের রস পানের সবচেয়ে উপযুক্ত সময় হলো সকাল। মনে রাখতে হবে লাউ থেকে রস তৈরি করার পরপরই পান করতে হবে। রেখে দিলে এতে অক্সিডাইজড হয়ে যায়।

আপনার মতামত লিখুন :